১৭ নভেম্বর, ২০২৫
জীবনের বিভিন্ন সময়ে মানুষ শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থিকভাবে দুর্বল বোধ করে। বিশেষ করে দুশ্চিন্তা, বিপদ বা অনিশ্চয়তার মুহূর্তে একজন মুমিনের প্রধান অবলম্বন হলো আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা। এই অবস্থায় হাদিসে বর্ণিত নিচের দোয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থবহ।
আরবি: اللَّهُمَّ إنِّي ضَعيفٌ فقَوِّ في رضاكَ ضَعْفي وخُذْ إلى الخيرِ بناصِيَتي واجعلِ الإسلامَ مُنتَهى رِضائي اللَّهُمَّ إنِّي ضَعيفٌ فقَوِّني وإنِّي ذَليلٌ فأَعِزَّني وإنِّي فقيرٌ فارزُقني
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি যইফুন ফাকাওয়ি ফি রিযাকা যু’ফী ওয়া খুয ইলাল খাইরি বিনাসিয়্যাতি ওয়াজআলাল-ইসলাামা মুনতাহা রিদাই। আল্লাহুম্মা ইন্নি যাইফুন ফাকাওয়িনি, ওয়া ইন্নি যালিলুন ফা আইজ্জ়ানি, ওয়া ইন্নি ফাকিরুন ফারযুকনি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি দুর্বল, আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমার দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপ দিন। আমাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন এবং ইসলামকে আমার সন্তুষ্টির সর্বোচ্চ স্তর বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আমি দুর্বল, আমাকে শক্তি দান করুন; আমি হীন, আমাকে মর্যাদা দান করুন; আমি দরিদ্র, আমাকে রিজিক দান করুন। (আল-মুস্তাদরাক: ১/৫১৬)
দোয়ার তাৎপর্য
এই দোয়ায় বান্দা আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে তাঁর কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রার্থনা করে- শক্তি, সম্মান ও রিজিক। একই সঙ্গে সঠিক পথে চলার হেদায়েতও চাওয়া হয়, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
দোয়ার গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকো সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা গাফির: ৬০)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়—দোয়া শুধু ইবাদতই নয়, বরং বিপদের সময় আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়।
দোয়া কবুলের পদ্ধতি
যখন কোনো মুমিন ব্যক্তির দোয়ায় কোনো পাপ থাকে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় থাকে না, তাহলে আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে দোয়া কবুল করেন—১. সে যে দোয়া করেছে, হুবহু তা কবুল করে দুনিয়াতে দেওয়া হয়। ২. তার দোয়ার প্রতিদান পরকালের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ৩. দোয়ার মাধ্যমে তার অনুরূপ কোনো অমঙ্গলকে তার থেকে দূরে রাখা হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ১১১৩৩)
অসহায়ত্ব বা দুর্বলতার সময় এই দোয়াটি পাঠ করলে মন শক্ত হয়, হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর উপর নির্ভরতা দৃঢ় হয়। নিয়মিত দোয়া মুমিনের আত্মাকে শুদ্ধ করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের দরজা খুলে দেয়।