সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে যে দোয়া পড়বেন

২৮ জুন, ২০২৬

জীবন কখনো কখনো আমাদের এমন কিছু কঠিন মোড়ে এনে দাঁড় করায়, যেখানে একটি সিদ্ধান্ত আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। কোন চাকরিটি বেছে নেব? কাকে জীবনসঙ্গী করব? কিংবা জীবনের পরবর্তী বড় পদক্ষেপটি কী হবে? এই দোলাচল আর দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুহূর্তে আমাদের মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সব পথেই কোনো না কোনো ঝুঁকি চোখে পড়ে। এমনকি ইস্তিখারা করার পরও অনেকে দ্বিধামুক্ত হতে পারেন না।

ঠিক এমন বিভ্রান্তিকর ও কঠিন মুহূর্তে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার জন্য আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের একটি অসাধারণ ও ছোট্ট দোয়া শিখিয়েছেন। নিচে সুন্দরভাবে লেখাটি সাজিয়ে দেওয়া হলো।

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দোয়া

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রিয় জামাতা ও চাচাতো ভাই হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া শিখিয়েছিলেন, যা মনের সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে দেয়।

নেতা, বিচারক এবং পারিবারিক প্রধান হিসেবে হযরত আলী (রা.)-কে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অসংখ্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতো। সেই ব্যস্ত ও দায়িত্বপূর্ণ জীবনে এই ছোট্ট দোয়াটি ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান ভরসা। আপনার জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মুহূর্তেও এটি হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। দোয়াটি (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৭২৫)

আরবি:

اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ্-দিনী ওয়া সাদ্দিদনী।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে সোজা ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখুন।

রসুলুল্লাহ সা. হজরত আলী (রা.)-কে চাওয়ার কোনো দীর্ঘ তালিকা দেননি। বরং মাত্র দুটি শব্দের মধ্যে জীবন গড়ার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে দিয়েছেন। ১. আইন-ইশারা বা পথপ্রদর্শন (ইদিনি): এর অর্থ হলো আল্লাহর কাছে এমন জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি চাওয়া, যা আপনাকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে।

২. সোজা তীরের মতো অবিচলতা (সাদ্দিদনী): তীর যেভাবে লক্ষ্যভেদের জন্য সোজা ছুটে যায়, ঠিক তেমনি আপনি যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা থেকে বিচ্যুত না হন এবং সেই সঠিক পথে অবিচল থাকেন।

কতবার এবং কখন পড়বেন?

নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই: রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করে দেননি। তাই ছোট বা বড় যেকোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলে এটি বারবার এবং নিয়মিত মনে মনে পড়তে থাকুন।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়: দোয়াটি যেকোনো সময় পড়া গেলেও, দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে (যেমন—রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কিংবা সেজদারত অবস্থায়) বেশি বেশি পাঠ করুন।

পৃথিবীর সব মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তার একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই জীবনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে নিজের চেষ্টার পাশাপাশি এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কখনো পথভ্রষ্ট করেন না।