১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
সন্তান-সন্ততি মহান আল্লাহর নেয়ামত। তিনি কাউকে সন্তান-সন্ততি দিয়ে পরীক্ষা করেন। কাউকে না দিয়ে পরীক্ষা করেন। আবার কাউকে দিয়ে আবার নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার যেমনই হোক, মুমিন যদি সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ধৈর্য ধারণ করে, তবে যেকোনো বিপদই তার জন্য কল্যাণে পরিণত হয়। সুহায়ব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সকল কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শোকর-গুজার করে আর অস্বচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে সবর (ধৈর্য ধারণ) করে, প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর। (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৯০)
বিপদ যত বড় হয়, তাতে ধৈর্য্য ধারণে পুরস্কারও তত বড় হয়। সন্তান যেহেতু আল্লাহ প্রদত্ত অমূল্য সম্পদ। পৃথিবীর কোনো জিনিস দিয়ে সন্তান হারানোর সান্ত্বনা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মহান আল্লাহও দয়ালু। তিনি তার বান্দার এই সাময়িক কষ্টের বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করেন। বরং জান্নাতে তার জন্য বিশেষ প্রাসাদ তৈরি করেন। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দার কোনো সন্তান মারা গেলে তখন আল্লাহ তাআলা তার ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে ছিনিয়ে আনলে? তারা বলে, হ্যাঁ।...আবার তিনি প্রশ্ন করেন, তখন আমার বান্দা কী বলেছে? তারা বলে, সে আপনার প্রতি প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, জান্নাতের মধ্যে আমার এই বান্দার জন্য একটি ঘর তৈরি করো এবং তার নাম রাখো বাইতুল হামদ বা প্রশংসালয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০২১)
এক কথায় বলতে গেলে, আমাদের জীবনের মালিক যেমন আল্লাহ, আমাদের সন্তান-সন্ততি ধন-সম্পদের মালিকও আল্লাহই। আমরা চাইলেও আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ পৃথিবীতে একদিন বেশি বাঁচার সুযোগ নেই। আমাদের সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পদও তার হুকুম ছাড়া ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই কখনো যেকোনো ধরনের কষ্টে পড়লে, হতাশায় না পড়ে, আল্লাহর কাছে ন্যস্ত করা উচিত। ধৈর্য ধারণ করা উচিত। মুমিনের ছোট থেকে ছোট বিপদ ও কষ্টও তার গুনাহ মাফে সহায়ক হয়। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)