১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে দায়িত্ব ছিল, সেটি পালনে তারা অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। যে সংস্কারগুলোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রেই ধীরগতি দেখা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির নিজস্ব কার্যালয়ে বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) সিপিআই ২০২৫-এর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কা বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচকে (সিপিআই) ৩ পয়েন্ট উন্নতি করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। স্কোরের দিক দিয়ে আমরা যে ১ পয়েন্ট উন্নতি করেছি সেটি দুর্নীতি কমার কারণে নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের ফল। কেননা, আন্দোলনটি চোরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছিল। তাই, সেটির মূল্যায়নে সিপিআই স্কোর ১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চোরতন্ত্রের জন্য দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের জন্য বিশ্বের অনেক দেশে উন্নতি হয়। এতে সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো এগিয়ে যায়। আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যে দলবাজি-দখলদারি দেখেছি, তাতে স্পষ্ট যে দুর্নীতির হাতবদল হয়েছে মাত্র, দমন হয়নি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দুটি দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিহত করা। দুটি ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা তাদের নিজেদের পছন্দে জোর দিয়েছেন, অন্য কারো মতামতে মূল্যায়ন করেনি।.
রাজনৈতিক ও আমলাতন্ত্রের কারণে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রাজনৈতিক ও আমলাতন্ত্রের অপশক্তির কারণে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বচ্ছতার চর্চা করতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে।
এসময় টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পর্ষদের পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, বহির্বিভাগ এবং যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/কেএ