গর্ভবতী নারীর রোজা পালনের শরয়ি বিধান

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পবিত্র রমজানের রোজা সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক সব মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে বিশেষ শারীরিক পরিস্থিতিতে ইসলাম মা ও শিশুর জীবন সুরক্ষায় এই বিধানে ‘রুখসত’ বা ছাড় দিয়েছে। কোরআনুল কারিমের সুরা আল-বাকারার ১৮৩ ও ১৮৪ নম্বর আয়াতে রোজার ফরজ হওয়া এবং অসুস্থদের জন্য শিথিলতার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের শারীরিক নাজুক অবস্থা এই শিথিলতার পর্যায়ভুক্ত।

কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা

সুরা বাকারার ১৮৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কেউ অসুস্থ হলে অন্য সময়ে রোজার সংখ্যা পূরণ করে নিতে পারবে। ফুকাহায়ে কেরামের মতে, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর। সাহাবি আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (স.) মুসাফির এবং গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীর জন্য রোজার বাধ্যবাধকতা শিথিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। (জামে তিরমিজি: ৭১৫)

রোজা রাখার শর্ত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ

যদি রোজা রাখার ফলে মা নিজে অসুস্থ হওয়ার কিংবা গর্ভস্থ বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা থাকে, তবে রোজা ভাঙার অনুমতি রয়েছে। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, গর্ভবতী নারী রোজা রাখার পর নিজের কিংবা সন্তানের প্রাণহানি বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা করলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। পরে এ রোজা কাজা করে নেবে। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২২)

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ বা শারীরিক অবস্থার অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। (ফাতহুল কাদির: ২/২৭২) তবে যদি রোজা রাখার কারণে মা ও শিশুর কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে, তবে রোজা রাখা উত্তম। এক্ষেত্রে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে রমজানে রোজা পালনকারী নারীদের জন্য জান্নাতের বিশেষ সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ: ১৬৬১)

পরবর্তী করণীয়

রমজানে রোজা না রাখলে তার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ আলেমের মত হলো- এসব ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে শুধু ‘কাজা’ (একটি রোজার বদলে একটি) আদায় করতে হবে। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে ফিদয়া বা কাফফারা প্রযোজ্য নয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৫৬৪)

গর্ভবতী নারীর জন্য রোজা পালনের বিধান অত্যন্ত মানবিক। মা ও শিশুর জীবন রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য (মাকাসিদ)। তাই শারীরিক সামর্থ্য ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখা উত্তম, তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে শরিয়তের ছাড় গ্রহণ করে পরবর্তী সময়ে কাজা আদায় করাই বিধেয়।