শিশুর পেট খারাপ: কখন চিন্তার, কখন নয়?

২৫ মার্চ, ২০২৬

উৎসবের আমেজ বা ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে পেটের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। বিশেষ করে ঈদের পর অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা বর্ষার শুরুতে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছোটরা যেহেতু সমস্যার কথা গুছিয়ে বলতে পারে না, তাই বাবা-মাকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। হালকা পেটের সমস্যায় সবসময় ওষুধের প্রয়োজন হয় না, বরং কিছু কার্যকরী ঘরোয়া যত্নেই শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

কখন চিন্তার কারণ নেই? (ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট)

যদি শিশুর পেট খারাপের ধরণ নিচের মতো হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে ঘরে সেবার ব্যবস্থা করুন-

ঘরে বসে যা করবেন (কার্যকরী করণীয়)

১. ওআরএস: ডায়রিয়াজনিত সমস্যায় ওআরএস অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান। এটি শরীরে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। শিশুকে একটু পর পর ওআরএস মিশ্রিত পানি খাওয়ান।
২. লবণ-চিনির পানি: যদি তাৎক্ষণিকভাবে ওআরএস না পাওয়া যায়, তবে এক গ্লাস নিরাপদ পানিতে এক চামচ চিনি এবং এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এটি সাময়িকভাবে পানিশূন্যতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা।
৩. ফুটানো পানি: ফিল্টারের পানি দিলেও এই সময়ে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। পানি অন্তত ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করে পান করান। এটি নতুন কোনো জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাবে।
৪. টক দইয়ের গুণ: মলের বেগ কিছুটা কমে এলে শিশুকে ঘরে পাতা টক দই খাওয়ান। এতে থাকা ‘ল্যাকটোব্যাসিলাস’ (উপকারী ব্যাকটেরিয়া) অন্ত্রের স্বাস্থ্য দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। তবে দোকানের কেনা মিষ্টি দই পরিহার করুন।

কখন চিন্তার বিষয়? (জরুরি সতর্কতা)

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে-

যেসব ভুল করা যাবে না

শিশুর অসুস্থতায় বিচলিত হওয়া স্বাভাবিক, তবে সঠিক তথ্য জানা থাকলে দুশ্চিন্তা অনেকখানি কমে যায়। ‘কখন চিন্তার, কখন নয়’—এই পার্থক্যটি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। মনে রাখবেন, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পানিই শিশুর সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি।