চীনে উন্নত চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা পাবেন যমুনা ব্যাংকের গ্রাহকরা

০১ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক যমুনা ব্যাংক পিএলসি, বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথ কেয়ার সেন্টার (বিআরএইচসি) এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি রোগীরা বিশেষ করে যমুনা ব্যাংকের কার্ডধারীরা চীনে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় পাবেন।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর গুলশানে যমুনা ব্যাংক পিএলসি'র প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন যমুনা ব্যাংক পিএলসি'র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিআরএইচসি'র অপারেশনস বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান, গুয়াংজু ফোসান চ্যানচেং হাসপাতালের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের ব্যবস্থাপক লিউ ওয়েনজুয়ান এবং শেনজেন হেংশেং হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ফান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শেনজেন হেংশেং হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার গুও চেং ঝুও, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক উ পেং এবং বিআরএইচসি'র নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই কৌশলগত সহযোগিতার আওতায় রোগী রেফারেল ও চিকিৎসা সমন্বয়ের জন্য একটি পেশাদার কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। চুক্তির আওতায় যমুনা ব্যাংক পিএলসি'র সকল কার্ডধারী গ্রাহক চীনে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় উপভোগ করবেন। যদি চীনে চিকিৎসার মোট ব্যয় ২০,০০০ আরএমবি অতিক্রম করে, তবে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে গ্রাহকরা মোট খরচের ওপর সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। বিআরএইচসি এখানে প্রধান মেডিকেল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে সমন্বয় ও ভিসা সহায়তাসহ সামগ্রিক সেবা প্রদান করবে।

যমুনা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা সবসময় গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে সচেষ্ট। এই চুক্তির ফলে আমাদের কার্ডধারীরা বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকর সুবিধা পাবেন এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা তাদের নাগালের মধ্যে আসবে।

বিআরএইচসি'র নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, এই উদ্যোগ মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমরা রোগীদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিআরএইচসি'র উপ-ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান জানান, চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১২টি চীনা হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হাসপাতালগুলো অনকোলজি, চক্ষু, অস্থি, শিশুরোগ এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকে। এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনে আধুনিক চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।