০৫ মে, ২০২৬
ভারতে ক্ষমতার পালাবদল হলেও 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতিতেই দেশের পররাষ্ট্রনীতি অটল থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুদিন পর একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এবারের ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই নানা কারণেই এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমান বিশ্বে এমন অনেক ইস্যু রয়েছে, যেগুলো আমাদের তৃণমূলের জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে ডিসিদের সাথে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন রোধে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের নাগরিকরা যেন বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে বিপদে না পড়েন বা মৃত্যুর মুখে পতিত না হন, সেটি রোধ করতে ডিসিদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন এ ধরনের ফাঁদে পা না দেয়, সেই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক জাগরণ তৈরিতে তাদের কাজ করতে হবে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা বিদেশে দক্ষ (স্কিলড) ও আধা-দক্ষ (সেমি-স্কিলড) কর্মী পাঠাতে চাই। এতে একদিকে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসনও বন্ধ হবে। এ লক্ষ্যে দেশের ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে আরও কার্যকর করতে ডিসিদের বলা হয়েছে। তরুণ-তরুণীরা যেন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিদেশে কাজের সুযোগ পায়, সেই বিষয়ে ডিসিরা কাজ করবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তৃণমূলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি, যার ভুক্তভোগী হন মূলত নারী ও শিশুরা। কোন অঞ্চলের কী অবস্থা, তা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিসিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ডিসিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিসিদের জানিয়েছি, যেকোনো বিষয়ে পরামর্শ বা আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দরজা তাদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব ক্ষেত্রেই একই থাকবে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’-এই নীতিতেই পরিচালিত হবে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। সেখানে যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না। সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে।