ভাঙ্গায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

০৫ মে, ২০২৬

 

ভাঙ্গায় এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সামান্য জরিমানা করার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে স্থানীয় মাতুব্বরেরা। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন।  

পুলিশ অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।  

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল রাত ১০ টার দিকে দেলোয়ার হোসেন ওই কিশোরীর বসত ঘরে প্রবেশ করে তাকে একা পেয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেয় ও ধর্ষণ চেষ্টা করে। এ সময় কিশোরী চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে দেলোয়ার হোসেন পালিয়ে যায়

ওই কিশোরী বলেন, ওই রাতে ঘরে আমি একা ছিলাম। আমার মা অসুস্থ থাকায় এখানে থাকেন না। দাদি ও বাবার সাথে আমি থাকি। বাবা ভ্যানচালক।

ওই সময় বাবা ভ্যান চালিয়ে বাড়িতে ফিরেননি। বাবার অপেক্ষায় আমি ঘর ভেতর থেকে না আটকে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাতে দেলোয়ার হোসেন আমার ঘরে ঢুকে আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেয় ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি বাধা দেই। এরপর আমি চিৎকার দেই।

এরপর দেলোয়ার হোসেন আমাকে শাসিয়ে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমার বাবাকে হুমকি দিয়ে স্থানীয় মাতুব্বরেরা সালিশ করেছে। আমি সালিশে উপস্থিত ছিলাম না।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ঘটনার পর থেকে দেলোয়ার আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ও এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে গত রবিবার দেলোয়ার স্থানীয় মাতুব্বরদের সহযোগিতায় আমার হাতে জোড় করে সামান্য টাকা তুলে দেয়। এ ঘটনা বাইরে বললে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। আমি দেলোয়ারের শাস্তি চাই।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।  

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকালে ওই কিশোরীর বাবা ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। আমরা প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছি। দেলোয়ারের পক্ষ নেওয়া স্থানীয় মাতুব্বরদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।