বদনজর থেকে সুরক্ষায় নবীজির দোয়া

১০ মে, ২০২৬

বদনজর বা কুদৃষ্টি (العين) ইসলামে স্বীকৃত একটি বাস্তব বিষয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘বদনজর সত্য। যদি কোনো কিছু তাকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তা করত।’ (আবু দাউদ: ৩৮৭৯; তিরমিজি: ২০৫৯) মানুষের ঈর্ষা বা অতিরিক্ত বিস্ময়ের দৃষ্টির কারণে আল্লাহর ইচ্ছায় কারো ক্ষতি হতে পারে- এ বিষয়ে ইসলাম কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক সুস্পষ্ট আমলের নির্দেশনা দিয়েছে।

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর সুরক্ষার জন্য এই দোয়াটি পড়তেন-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিও ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই প্রতিটি শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রতিটি কুনজরের অনিষ্ট থেকে। (সহিহ বুখারি: ৩৩৭১)

সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত এই দোয়া পড়া এবং মাসনুন জিকির করা সব অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (স.) কুদৃষ্টিসহ যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের জন্য সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাসকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতেন। (আবু দাউদ: ৫০৮২; তিরমিজি: ৩৫৭৫)

শিশুদের ওপর এই দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নাহসম্মত আমল। এ ছাড়া নিজের বা অন্যের কোনো নিয়ামত দেখলে ‘মাশাআল্লাহ’ বা ‘বারাকাল্লাহু ফিক’ বলা উচিত, যাতে কুনজরের ক্ষতি না হয় এবং বরকত অক্ষুণ্ণ থাকে।

কুনজর থেকে বাঁচতে তাবিজ-কবজ বা কুসংস্কারের আশ্রয় ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআন-সুন্নাহর শেখানো দোয়া, নিয়মিত জিকির এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলই একজন মুমিনের প্রকৃত সুরক্ষা।