চট্টগ্রামে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

১৬ মে, ২০২৬

‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তি। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ সোয়াইবের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন।

সমাবেশে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হুজ্জাতুল্লাহ বিন ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগকে কারা মদদ দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

জুলাই হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে আসার পর তোমরা চুপ কেন। সামনে স্থানীয় সংসদ নির্বাচন। সেজন্য ভোটের কাঙাল হয়ে গেছেন। 

সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন বলেন, গতকাল পতিত স্বৈরাচারের একজন সদস্যের জানাজায় দেখলাম মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র সেখানে অংশগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াতের এমপি প্রার্থীও অংশ নিয়েছেন। জামায়াত-বিএনপি কি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে? আপনারা জানেন, আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি। আমরা দেখেছি, জানাজা থেকে পতিত স্বৈরাচারের পেটুয়া বাহিনী জানাজা থেকে লোককে গ্রেপ্তার করে ধরে নিয়েছিল। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা চট্টগ্রামে হতে দেয়নি। ৫ আগস্ট এদেশের মানুষ যে সংগঠনকে লাল কার্ড দেখিয়েছে তাদের জানাজা থেকে কীভাবে স্লোগান দেওয়া হয়। আমরা রাজপথে আছি। নতুন যে জুলুম সৃষ্টি হচ্ছে সেটি যেন কোনোভাবে সফল না হয় তার জন্য আমাদের সক্রিয় থাকতে হবে। 

যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. এমআর রহমান মাবরুর বলেন, আমরা অতীত ভুলতে চাই না। প্যারেড ময়দান, লালদীঘি মাঠে তাদের নেতাদের জানাজায় কীভাবে নিষ্পেষিত হয়েছিল। তারা সেগুলো ভুলে যেতে পারে ছব্বিশ পরবর্তী জনগণ ভুলবে না। জুলাইয়ের তরুণেরা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে রাজনীতি করার নৈতিক ও ঐতিহাসিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। তারা ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য যে গণহত্যা চালিয়েছে এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। এর বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হতে হবে। আইনের মাধ্যমে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে রক্তের হোলি খেলা চাই না। বাংলার মাটি শহীদদের মাটি কোনো ফ্যাসিস্ট জনগোষ্ঠীর বাপের সম্পত্তি নয়। 

যুগ্ম সদস্যসচিব সাদিয়া আফরিন বলেন, জুলাইয়ে আমার চৌদ্দশ’ ভাইয়েরা কেন শহীদ হয়েছিলেন আপনারা জানেন। আওয়ামী লীগের কালেমা হচ্ছে জয় বাংলা স্লোগান। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা পড়তে বিএনপি, জামায়াতকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। গতকাল একটি জানাজায় জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুব দুঃখের বিষয়। এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগকে যারা সাপোর্ট করছে তাদের নিন্দা জানাই। 

মহানগর এনসিপির সদস্য তানিয়া আমিন বলেন, স্বৈরাচাররা আমাদের ভাই, বোনদের ওপর কতটা অত্যাচার করেছে আমরা দেখেছি। স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করতে আমরা জুলাই তৈরি করেছি। হয়তো আমরা একাত্তর দেখিনি কিন্তু ছব্বিশটা কী আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। এখানে একত্রিত হওয়ার কারণটা হচ্ছে আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নামতে দ্বিধাবোধ করবো না। গতকাল যে মিছিল হয়েছিল ওইখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটা রাজপথে আশা করিনি। বর্তমান সরকারের একজন মেয়র যদি উপস্থিত থাকেন, উনার পেছনে জয়বাংলা স্লোগান দেওয়া মেনে নেব না। আমাদের যে ভাই বোনগুলো রক্ত দিয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তারা জীবন দিয়েছে তাঁদের আত্মত্যাগের জন্য দ্বিতীয়বার জুলাই করতে রাজি আছি। স্বৈরাচারকে আমরা কখনো দ্বিতীয়বার রাজপথে ফিরতে দেব না। 

সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পর অসংখ্যবার এ সমস্ত প্রোগ্রাম করে আসছি। প্রশাসনকে অসংখ্যবার বলা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যাপারে আপনারা স্টেপ নেন। চট্টগ্রামে যদি আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশে দাঁড়াতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না। চট্টগ্রাম একটি রাজনৈতিক ভূমি। এখানে স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছে। আমাদের সহযোদ্ধারা যারা আছেন আমরা কখনোই আওয়ামী লীগকে চট্টগ্রামে দাঁড়াতে দেব না। গতকাল দেখলাম জামায়াতে ইসলামীর ৯ আসনের যিনি প্রার্থী ছিলেন ফজলুল হক, তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন, প্লাস বিএনপির মেয়র গেছেন। জামায়াত আমাদের ১১ দলীয় জোটের অংশীদার, জামায়াতে ইসলামীর কাছে জানতে চাই, আপনাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি গিয়েছেন কিনা। যদি তিনি ব্যক্তিগতভাবে যান সাংগঠনিক কী ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাই। 

তিনি বলেন, প্রশাসনের ভাইদের বলবো আপনাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেন। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁরা আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যেটা দেখছি, প্রশাসন ও গোয়েন্দা তৎপরতার দুর্বলতা। একটি কথা বলি, আমরা বার বার রক্ত দেব না। আমরা যদি দেখি, এখানে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে তখন এ চট্টগ্রাম থেকেই যেকোনো প্রকার আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হব। আপনারা জানাজা পড়বেন, জানাজা পড়ে সোজা চলে যাবেন। কিন্তু আপনারা জানাজা পড়ার পর শেখ হাসিনাকে আনার জন্য আবার মিছিল করছেন। শেখ হাসিনা আসবে আবার গণহত্যা হবে। আরেকটি গণহত্যার জন্য আপনারা আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন। এরপর শেখ হাসিনাকে আনার জন্য যারা চট্টগ্রামে আওয়াজ তুলবেন তাদের আওয়াজ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য বিপ্লবী ভাইয়েরা প্রস্তুত আছেন। যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয় এ সমস্ত প্রশাসন আমাদের চট্টগ্রামে কোনো প্রয়োজন নেই। এদেশের স্বাধীনতা কারও কাছে বিকিয়ে দেব না।  

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জামালখান, চেরাগি, মোমিন রোড, আন্দরকিল্লা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘এনসিপির অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘ছাত্রলীগের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’ এসব স্লোগান দেন।