১৮ মে, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশকে কেন্দ্র করে আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী ও তাদের সহকারীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিক এবং এক পুলিশ সদস্যকেও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি ভবনে এই আটকে রেখে মারধরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ ৭ জনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ব্যক্তি ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেলে একটি সালিশকে কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে ইমাম হাসান বারু নামের এক ব্যক্তিকে আটকে মারধর করেন আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা। এ সময় বারুর দুই ছেলে ও পরিচিত কয়েকজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকেও একটি কক্ষে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষার সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাকেও আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে দোতলায় আটকে রাখা হয়। এ সময় তার মুঠোফোন ও আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্যের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাকেও হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়। পরবর্তীতে অবরুদ্ধ সাংবাদিক তুষারকে ছাড়িয়ে আনতে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে আইনজীবীরা তাদেরও মারধর করতে তেড়ে আসেন।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাওয়ার সময় মধ্যরাতে উদ্ধার হওয়া সিফাত ও পরশ জানান, তাদের আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। আহত ৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। তারা হলেন- জেলা শহরের বালুবাগান এলাকার ইমাম হাসান বারু (৪৬), তার ছেলে রেদওয়ান আহমেদ (২২), আরেক ছেলে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র হাসানুল বান্না আকিব (১৪), একই এলাকার মোমিন আলীর ছেলে জিদান (১৯), সিফাত আলী (১৮), রাইহান মণ্ডলের ছেলে পরশ (১৬) এবং সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার কুইক (১৯)।
এ ঘটনার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মারধরে মোট ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তবে রোববার রাত ১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।