কোরবানির ঈদে মাংস কাটার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

২৭ মে, ২০২৬

ঈদের আনন্দের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে কোরবানির মাংস কাটাকাটি। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে এই কাজ করলে উৎসবের আমেজ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি কাজটাও দ্রুত শেষ হয়।

কিন্তু এই আনন্দঘন মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। সামান্য একটু অসতর্কতায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তারক্তি হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদের মতে, বেশিভাগ দুর্ঘটনা ঘটে কিছু সাধারণ ভুলের কারণে, যা একটু সচেতন হলেই এড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, মাংস কাটার সময় নিরাপদ থাকতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:

ভোঁতা ছুরি এড়িয়ে চলুন

অনেকেই মনে করেন বেশি ধারালো ছুরি বিপজ্জনক, কিন্তু বিষয়টি উল্টো। ভোঁতা ছুরি দিয়ে কাজ করতে গিয়ে বেশি শক্তি বা চাপ দিতে হয়, ফলে হাত পিছলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্যদিকে ধারালো ছুরি অল্প চাপে এবং নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করা সহজ।

সবসময় মনে রাখবেন, ছুরি বা বটি চালানোর দিক যেন আপনার শরীরের বিপরীত দিকে থাকে। নিজের দিকে টেনে বা শরীরের খুব কাছ থেকে কাটলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া তাড়াহুড়ো করা বা একসঙ্গে অনেক বড় মাংসের টুকরো কাটার চেষ্টা করবেন না।

পিচ্ছিল মাংস ও চপিং বোর্ডের ব্যবহার

কাঁচা মাংস পিচ্ছিল হওয়ার কারণে হাত থেকে পিছলে যেতে পারে। তাই মাংস কাটতে শক্ত চপিং বোর্ড ব্যবহার করুন। বোর্ডটি যেন নড়ে না যায়, সেজন্য তার নিচে একটি ভেজা কাপড় বা রাবার দিতে পারেন। মাংস ধরার সময় আঙুলগুলো ভাঁজ করে ‘ক্ল গ্রিপ’ পদ্ধতিতে ধরুন, এতে আঙুল কাটার ভয় থাকে না। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে মাংস ও সবজি কাটার বোর্ড আলাদা রাখা উচিত যাতে ব্যাকটেরিয়া না ছড়ায়।

মনোযোগ স্থির রাখুন

মাংস কাটার মতো সংবেদনশীল কাজের সময় অন্য কারো সাথে কথা বলা, মোবাইলে কথা বলা বা অন্য দিকে তাকিয়ে কাজ করা মোটেও উচিত নয়। সামান্যতম বিভ্রান্তিই বড় ধরনের ক্ষত তৈরি করতে পারে।

দুর্ঘটনা ঘটলে করণীয়

সাবধান থাকার পরেও যদি হাত কেটে যায়, তবে ডা. মোস্তাক আহমেদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:

প্রথমেই একটি পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষতস্থানে একটানা ৫ থেকে ১০ মিনিট শক্ত করে চাপ দিয়ে ধরুন।

রক্ত বন্ধ হয়েছে কিনা দেখার জন্য বারবার কাপড় উঠাবেন না।

রক্ত বন্ধ হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে।

যদি ক্ষত অনেক গভীর হয়, হাড় বা রগ দেখা যায় কিংবা রক্তপাত বন্ধ না হয়, তবে কোনো দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

পরিশেষে, ঈদের আনন্দ যেন ম্লান না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি আপনার মাংস কাটার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে ঝুঁকি না নিয়ে পেশাদারদের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সচেতনতাই পারে উৎসবের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে।