টেনিসের প্রতি ভালোবাসার কাছে চোট কিছুই না: নাদাল

২৯ মে, ২০২৬

টেনিস কোর্টে রাফায়েল নাদাল মানেই ছিল এক অদম্য যোদ্ধা, যিনি প্রতিটা পয়েন্টের জন্য লড়ে যেতেন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েই। ২০২৪ সালে অবসরে যাওয়া এই স্প্যানিশ কিংবদন্তি ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতে টেনিসের ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে রেখেছেন। তবে পর্দার পেছনের নির্মম সত্য হলো- তার এই অতিমানবীয় ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময়ই কেটেছে তীব্র ও অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে।

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া একটি নতুন সিরিজে ৩৯ বছর বয়সী নাদাল খোলাসা করেছেন, টেনিস কোর্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য নিজের স্বাস্থ্যের ওপর তিনি কতটা অমানবিক ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

নাদাল অকপটে স্বীকার করেন, ‘আমাকে স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যা সঠিক ও ভুলের একদম শেষ সীমানায় ছিল। কিন্তু আমি যদি সেই চরম ঝুঁকিগুলো না নিতাম, তবে আজ আমার নামের পাশে ১০ থেকে ১২টি গ্র্যান্ড স্লাম কম থাকত। এটিই বাস্তব সত্য।’

২০০৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে টেনিস দুনিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন লম্বা চুলের পেশীবহুল এই তরুণ। কিন্তু সেই বছরই মাদ্রিদ ওপেন ফাইনাল জেতার পর তার বাঁ পায়ের পাতা ভেঙে যায় এবং ধরা পড়ে ‘মুলার-উইস সিন্ড্রোম’ নামের একটি বিরল ও ক্ষয়কারী রোগ।

চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন নাদাল হয়তো আর কখনোই টেনিস খেলতে পারবেন না। তবে বিশেষ এক ধরণের ইনসোল (জুতার ভেতরের তলা) ব্যবহার করে তিনি খেলা চালিয়ে যান। কিন্তু এই ইনসোল তাঁর শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যার ফলে ২০১২ সালে তাঁর বাঁ হাঁটুর টেন্ডনে আক্ষরিক অর্থেই গর্ত বা ফুটো তৈরি হয়।

মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে নাদালের কোচ ছিলেন কাকা টোনি, যার প্রশিক্ষণের ধরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর। ছোটবেলায় নাদালকে কষ্ট সহ্য করা শেখানোর জন্য অনুশীলনের প্রথম এক ঘণ্টা পানি খেতে দেওয়া হতো না। এমনকি একবার আঙুল ভেঙে যাওয়ার পরও টোনি তাকে খেলতে উৎসাহিত করেন এবং নাদাল প্লাস্টার পরেই টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন!

নাদালের দীর্ঘদিনের ফিজিও রাফায়েল মেমোর মতে, ‘নাদাল সম্ভবত কষ্ট পেতেই ভালোবাসতেন, যাতে সেই কষ্টকে জয় করার আনন্দটা উপভোগ করা যায়।’

তবে ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে মানসিক চাপ কমাতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সাবেক স্প্যানিশ এক নম্বর কার্লোস মোয়াকে কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন নাদাল, যার ফলে কাকা টোনির সঙ্গে তার পেশাদার সম্পর্কের ইতি ঘটে। আর এর পরেই নাদাল তার ক্যারিয়ারের বাকি ৮টি গ্র্যান্ড স্লাম জেতেন।

নাদাল বলেন, ‘মোয়া আসার পর ক্যারিয়ারের শেষ বছরগুলো আমি কিছুটা স্বাধীন ও মুক্ত মনে উপভোগ করতে পেরেছিলাম।’