পায়খানা চেপে রাখলে শরীরে যা ঘটে

২৪ জুন, ২০২৬

এই অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সবারই আছে। অনেক সময় টয়লেটে যাওয়ার তাগিদ হয়, কিন্তু কোনো কারণে তা হয় না। হতে পারে আপনি কর্মস্থলে আছেন, ভ্রমণ করছেন অথবা কাছাকাছি কোনো শৌচাগার নেই। তাই হয়তো চেপে রাখেন। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, এটি মাঝে মাঝে ঘটে এবং এতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যদি এটি অভ্যাসে পরিণত হয়? নিয়মিত অন্ত্রের সংকেত উপেক্ষা করতে থাকলে শরীরে কী ঘটে? পায়খানা চেপে রাখা সত্যিই কি ক্ষতিকর? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

পায়খানা চেপে রাখলে কী হয়?

মাঝে মাঝে পায়খানা চেপে রাখা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, কিন্তু এটি ঘন ঘন করলে তা হজম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। মলত্যাগের তাগিদ হলে শরীর আপনাকে জানায় যে বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত। আপনি যদি এই সংকেত উপেক্ষা করেন, তাহলে মল আপনার কোলনে বেশিক্ষণ থেকে যায়। সেখানে থাকার ফলে মল থেকে আরও বেশি পানি শোষিত হয়। এর ফলে মল আরও শক্ত, শুষ্ক এবং পরে বের করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

২০২২ সালের একটি হেলথকেয়ার স্টাডি অনুসারে, মল চেপে রাখলে মলদ্বার প্রসারিত হয় এবং মল থেকে পানি বেরিয়ে যায়, ফলে এটি শুষ্ক, শক্ত এবং বের করার সময় যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। এই অভ্যাসের কারণে মস্তিষ্ক মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করা বন্ধ করে দেয়, যা থেকে গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশীর ক্ষতি বা অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।

কী স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে?

নিয়মিত এমন করলে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত মল চেপে রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়া, কঠিন মল ত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অর্শ (হেমোরয়েডস) ইত্যাদি হতে পারে। যেসব শিশু প্রায়শই মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করে, তাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্ত্র-সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

মলত্যাগ বিলম্বিত করা কি আদৌ ঠিক?

এর উত্তরটা সহজ নয়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ, কাজ বা শৌচাগারের অভাবের কারণে মাঝে মাঝে দেরি হওয়াটা সাধারণত গুরুতর কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। তবে এটিকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে বারবার মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করলে এই সংকেতগুলোর প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে, যার ফলে কখন মলত্যাগের প্রয়োজন তা বোঝা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

মলত্যাগের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস কীভাবে বজায় রাখবেন?

* পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
* ফল, শাকসবজি, শস্যদানা এবং ডালসহ আঁশযুক্ত খাবার খান।
* শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।
* যখনই মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করবেন, তখনই তা করুন।
* এই অভ্যাসগুলো মলকে নরম ও সহজে ত্যাগযোগ্য রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

ঘন ঘন কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত বা মলত্যাগের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুভব করলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।