২৪ জুন, ২০২৬
আনাস (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) একজনকে কিবলার দিকে থুথু ফেলতে দেখতে পেলেন। এটা দেখে নবিজির খুব খারাপ লাগল। তার চেহারায়ও সেই চিহ্ন ফুটে উঠল। তিনি দাঁড়িয়ে নিজ হাতে তা ঘষে উঠিয়ে ফেললেন। তারপর বললেন, তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে আল্লাহর সাথে কথোপকথন করে। আর তার ও কিবলার মধ্যে আল্লাহ থাকেন।
সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে। একান্তই যদি থুথু চলে আসে, তাহলে বামে কিংবা পায়ের নিচে ফেলবে। তারপর মহানবী (সা.) তার চাদরের এক কোণ ধরে তাতে থুথু ফেলে এক অংশকে অন্য অংশ দিয়ে রগড়ে দিয়ে বললেন, তোমরা চাইলে এমনও করতে পার। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৭৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২৩৩০)
হাদিসের শিক্ষাসমূহ
১. সালাত শুধু কিছু শারীরিক কর্মকাণ্ডের নাম নয়; বরং এটি বান্দা ও আল্লাহর মাঝে এক গভীর আধ্যাত্মিক যোগাযোগ।
তাই সালাতে পূর্ণ মনোযোগ ও বিনয় থাকা উচিত।
২. কিবলা মুসলমানদের জন্য সম্মানিত দিক। তাই কিবলার দিকে থুথু, কফ বা শ্লেষ্মা নিক্ষেপ করা আদবের পরিপন্থী এবং গুনাহের কাজ।
৩. মসজিদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা ঈমানের অংশ। কেননা মহানবী (সা.) নিজ হাতে কিবলার দেয়াল থেকে থুথু পরিষ্কার করেছেন।
৪. নেতৃত্বের আদর্শ হলো নিজে কাজ করে দেখানো। তাইতো মহানবী (সা.) শুধু নির্দেশ দেননি; বরং নিজেই অপবিত্রতা পরিষ্কার করেছেন।
৫. সালাতে দাঁড়িয়ে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা সালাতের মর্যাদা বা একাগ্রতা নষ্ট করে। তাই সালাতে আদব ও শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি।
৬. খোলা জায়গায় সালাত আদায়ের সময় যদি থুথু চলে আসে, তবে ডান দিকে বা কিবলার দিকে নয়; বরং বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নিচে ফেলার অনুমতি রয়েছে।
৭. বর্তমান যুগে মসজিদে কার্পেট, টাইলস ইত্যাদি থাকায় মেঝেতে থুথু ফেলা সমীচীন নয়। এ অবস্থায় রুমাল, টিস্যু বা কাপড় ব্যবহার করা সুন্নাহসম্মত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।
৮. মহানবী (সা.) উম্মতের ভুল সংশোধনে প্রজ্ঞা অবলম্বন করতেন। তিনি রাগের বশবর্তী হয়ে কঠোর শাস্তি দেননি; বরং নিজে পরিষ্কার করে শিক্ষা দিয়েছেন। দাওয়াত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে এটিই উত্তম পন্থা
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সালাতের আদব রক্ষা করার এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা সংরক্ষণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।