২৬ জুন, ২০২৬
আল্লাহ তাআলা মানুষের হেদায়াতের জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। কোরআনের প্রতিটি সুরা, প্রতিটি আয়াতই মুমিনের জন্য রহমত, নুর ও কল্যাণের উৎস। তবে কিছু সুরা বিশেষ সময়ে তেলাওয়াত করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হলো সুরা আল-কাহাফ, যা জুমার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথের দিশা দেয়, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৯)
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক মুসলিম ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কখনো ভুলে যান, কখনো কর্মব্যস্ততার কারণে জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করতে পারেন না।
তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—মাগরিবের পরে পড়লে কি একই ফজিলত পাওয়া যাবে? অথবা মিস হয়ে গেলে করণীয় কী?
জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বিকশিত থাকবে।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২)
তাই সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা একটি মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও অত্যন্ত প্রশংসনীয় আমল।
‘জুমার দিন’ বলতে কোন সময়কে বোঝায়?
প্রসিদ্ধ একটি মত অনুযায়ী অনেক ফকিহ ও মুহাদ্দিসিনে কেরাম বলেন, বৃহস্পতিবার মাগরিব-শুক্রবার মাগরিব-এই পুরো সময়ই জুমার দিনের অন্তর্ভুক্ত। এ মত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতেও সুরা কাহাফ পড়লে ইনশাআল্লাহ ফজিলত পাওয়ার আশা করা যায়।
একটি বিষয়ে সকলেই একমত যে, শুক্রবার সূর্যাস্ত (মাগরিব)-এর পর জুমার দিনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যায়। তাই মাগরিবের পর সুরা কাহাফ পড়লে কোরআন তেলাওয়াতের সাধারণ সওয়াব অবশ্যই হবে, কিন্তু জুমার দিনের নির্দিষ্ট ফজিলত আর প্রযোজ্য হবে না।
যদি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়া মিস হয়ে যায়
এখানে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ—সুরা কাহাফ পড়া ফরজ নয়, ওয়াজিবও নয়। এটি একটি মুস্তাহাব সুন্নাহ আমল।
অতএব, ভুলে গেলে গুনাহ হবে না। ব্যস্ততার কারণে পড়তে না পারলেও পাপ হবে না। পরে যেকোনো সময় কোরআনের অংশ হিসেবে তেলাওয়াত করলে কোরআন তেলাওয়াতের সাধারণ সওয়াব পাওয়া যাবে।
মিস না করার সহজ উপায়
সুরা কাহাফ নিয়মিত পড়ার জন্য কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে—
১. বৃহস্পতিবার রাতেই প্রস্তুতি নেওয়া
২. শুক্রবার ফজরের পরপরই তেলাওয়াত করা
৩. মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করা
৪. পরিবারসহ একসঙ্গে তেলাওয়াতের অভ্যাস করা। অর্থ ও তাফসিরসহ পড়ার চেষ্টা করা। এভাবে আমলটি নিয়মিত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
অতএব, সুরা কাহাফ তেলাওয়াত জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ আলেম একে একটি উৎসাহিত ও আমলযোগ্য সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
জুমার দিনের সময়সীমা নিয়েও ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। কেউ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কেউ শুক্রবার ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়কেই নির্ধারিত বলেছেন। তবে সবাই একমত যে, শুক্রবার মাগরিবের পর এই বিশেষ ফজিলতের সময় শেষ হয়ে যায়।
তাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পন্থা হলো শুক্রবার ফজরের পর থেকে মাগরিবের আগেই সুরা কাহাফ তেলাওয়াত সম্পন্ন করা। আর যদি কোনো কারণে মিস হয়ে যায়, তবে হতাশ না হয়ে অন্য সময় কোরআনের অংশ হিসেবে তা তেলাওয়াত করা উচিত। কারণ আল্লাহ তাআলার কিতাবের প্রতিটি অক্ষরই মুমিনের জন্য নূর, রহমত ও অশেষ সওয়াবের উৎস।