সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত: আমলের সঠিক পদ্ধতি কী

০১ জুলাই, ২০২৬

পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াত ও সুরার বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেকেই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এই আয়াতগুলো তেলাওয়াত করেন। তবে প্রশ্ন হলো- এ আয়াতগুলোর আমলের সঠিক পদ্ধতি কী? হাদিসে এ বিষয়ে কী এসেছে? আর কোন বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত?

সুরা হাশর সম্পর্কে সংক্ষেপে

সুরা আল-হাশর পবিত্র কোরআনের ৫৯তম সুরা। এটি একটি মাদানি সুরা এবং এর আয়াত সংখ্যা ২৪। দ্বিতীয় আয়াতে ব্যবহৃত ‘হাশর’ শব্দ থেকেই সুরাটির নামকরণ করা হয়েছে। এতে মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাজিরের বিশ্বাসঘাতকতা, তাদের বহিষ্কার এবং মুসলিম সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।

সুরার শেষ তিন আয়াতে আল্লাহ তাআলার বহু মহান গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আয়াতে আল্লাহর একত্ব, সর্বজ্ঞতা, পরম ক্ষমতা, অসীম দয়া ও মহিমার পরিচয় অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় ফুটে উঠেছে।

হাদিসে কী এসেছে?

হজরত মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আউজু বিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পাঠ করার পর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত (২২–২৪) তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত করেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। আর সে দিন যদি তার মৃত্যু হয়, তবে শহীদের সওয়াব লাভের সুসংবাদ রয়েছে। একইভাবে সন্ধ্যায় এ আমল করলে সকাল পর্যন্ত অনুরূপ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

তবে এ হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু হাদিস বিশারদ একে দুর্বল বলেছেন, আবার অন্যরা একে হাসান বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ বিষয়ে মতভেদের বিষয়টি জানা এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা উত্তম।

আমলের সঠিক পদ্ধতি

হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করার নিয়ম হলো-

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, সর্বময় কর্তৃত্ব, পরিপূর্ণ জ্ঞান, অসীম দয়া এবং তাঁর সুন্দরতম নামগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তাই এসব আয়াতের অর্থ ও শিক্ষা অনুধাবন করে তেলাওয়াত করলে ঈমান, আল্লাহভীতি ও তাওয়াক্কুল আরও দৃঢ় হয়।

প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন, এই আয়াতগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক বার পড়লে সব সমস্যা অলৌকিকভাবে দূর হয়ে যাবে বা এগুলো বিশেষ তাবিজের মতো কাজ করবে। এসব ধারণা ভুল। কোরআন ও সুন্নাহ এমন কোনো শিক্ষা দেয় না। একজন মুসলিমের উচিত হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতিতে এ আমল করা এবং সব কল্যাণের জন্য একমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখা।

মুসলিমের করণীয়