১১ জুলাই, ২০২৬
বৃষ্টি মানে কারো কাছে ধোঁয়া ওঠা কফির মগে চুমুক দেওয়া, কারো কাছে ইলিশ আর খিচুড়ি খাওয়ার উপলক্ষ। তবে বৃষ্টি যদি টানা চলতে থাকে তখন আর বৃষ্টিবিলাসের শখ থাকে না। যেমনটা হয় বর্ষায়। এসময় নানা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণ সর্দি-কাশি বা পেটের সমস্যা তো আছেন, সেসঙ্গে বর্ষায় বেড়ে যায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকিও। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, পরিচ্ছন্নতার অভাবের মতো নানা নানা কারণে ইউটিআই এর ঝুঁকি বাড়ে।
বর্ষার আবহাওয়ায় জীবাণু দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। তার ওপর যাদের ইমিউনিটি দুর্বল তাদের সুস্থ হয়ে উঠতেও বেশি সময় লাগে। তাই এসময় মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রয়োজন আগাম সতর্কতা।
নারীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মূত্রনালির সংক্রমণের জন্য মূলত দায়ী Escherichia coli (E. coli) নামক ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে থাকে। সেখান থেকে যদি ব্যাকটেরিয়া মূত্রাশয়ে পৌঁছে যায় তাহলে ইনফেকশন দেখা দেয়।
বর্ষাকালে অত্যধিক আর্দ্রতা এই ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। বৃষ্টিতে ভিজলে কিংবা ঘাম হলে গোপনাঙ্গও দীর্ঘক্ষণ স্যাঁতস্যাঁতে থাকে। এই পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকলে, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে এবং পর্যাপ্ত পানি না খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় দ্বিগুণ।
বর্ষায় ইউটিআই-এর সমস্যা এড়াতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সুস্থ হয়ে উঠতেও অনেক সময় লাগে। রোজ অন্তত ৭-৮ গ্লাস পানি খেতে হবে।
দীর্ঘক্ষণ রাস্তাঘাটে ঘুরে কাজ করলে বেশিরভাগ নারীই অনেক সময়ই প্রস্রাব চেপে রাখেন। কিন্তু এটা না করাই ভালো। প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রথলিতে চাপ সৃষ্টি হয়। এতেও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
গোপনাঙ্গ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও ভীষণ জরুরি। তবে তার জন্য এমন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না, যার মধ্যে ক্ষার ও সুগন্ধ রয়েছে। এগুলো ইউটিআই-এর পাশাপাশি আরও অনেক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করবেন না। শরীরে ঘাম জমলেও ব্যাকটেরিয়ার আনাগোনা বাড়ে। এছাড়া শৌচালয় ব্যবহার করার আগে ভালো করে তা ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
মূত্রনালির সংক্রমণ হলে প্রস্রাব করতে সমস্যা হওয়া, তলপেটে ব্যথা, খিদে কমে যাওয়ার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এই সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানি পান করা। সংক্রমণ হলে স্বস্তি পেতে ক্র্যানবেরির জুস খেতে পারেন। এই পানীয়ও মূত্রনালির সংক্রমণের হাত থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
এছাড়া প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হতে পারে। তবে তার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।