রমজানজুড়ে আমলের উদ্যম ধরে রাখা

১০ এপ্রিল, ২০২২

আমরা মহিমান্বিত রমজান মাস অতিক্রম করছি। রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। তাই প্রতিটি সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। একটু সময়ও যেন অনর্থক নষ্ট না হয়, সেদিকে পরিপূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। কিভাবে প্রতিটি সেকেন্ডকে কাজে লাগানো যায়, সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

আমরা অনেকেই রমজানের শুরুর দিকে খুব আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে আমল করে থাকি। মসজিদগুলো থাকে কানায়-কানায় ভরপুর। আবালবৃদ্ধবনিতা সবার মধ্যে আমলের এক নতুন আমেজ লক্ষ করা যায়।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এ আগ্রহ-উদ্দীপনা বেশি দিন থাকে না। রমজানের চার-পাঁচদিন অতিবাহিত হয়ে গেলে সবার মধ্যে অলসতা ভাব চলে আসে। নামাজে আগের মতো মনোযোগ থাকে না। তিলাওয়াতে মন বসে না। অন্যান্য ইবাদতেও একধরনের ভাটা পড়ে যায়।

আমলের আগ্রহাতিশয্য ফিরে আসে আবার রমজানের শেষের দিকে। লাইলাতুল-কদরকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু একজন সচেতন মুমিনের জন্য, রমজানের মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে এভাবে হেলায়-খেলায় ব্যয় করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়।
তাই রমজানজুড়ে আমলের উৎসাহ ধরে রাখার জন্য পাঁচটি উপায় তুলে ধরলাম। যে কেউ এসব নির্দেশনা মেনে চললে, আশা করি, পুরো রমজানে তিনি আমলের উদ্যম ধরে রাখতে পারবেন।

এক. নিজেকে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়া : ইরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ তায়ালা কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।’ (সূরা রাদ, ১৩ : ১১) আমরা সবাই নিজ জীবনের পরিবর্তন চাই। নিজেদের ঈমান-আমল চাঙ্গা করতে চাই। আরো সমৃদ্ধি কামনা করি। কিন্তু এটা তো এমনি এমনি হবে না। প্রত্যেকের নিজ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। আমি যখন নিজেকে পরিবর্তন করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে উদ্যোগী হবো, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্যই সাহায্য আসবে।

দুই. নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া : ইরশাদ হচ্ছে, ‘এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদসমূহের অন্যতম। মানুষের জন্য সতর্ককারী, তোমাদের মধ্যে যে কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে চায় অথবা পেছনে পড়ে থাকতে চায় তার জন্য।’ (সূরা মুদ্দাসির, ৭৪ : ৩৬-৩৭) আমাদের উচিত, নিজ থেকে মঙ্গল ও কল্যাণের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যথায় নফস ও শয়তান আমাদের ধ্বংস ও বরবাদের দিকে নিয়ে যাবে। সুতরাং রমজানকে পুঁজি করে, নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেলে, শ্রেষ্ঠত্বের সুউচ্চ চূড়ায় পৌঁছা সম্ভব, ইনশা আল্লাহ।

তিন. চেষ্টা অব্যাহত রাখা : ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর যারা আমার পথে চেষ্টা-সাধনা করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করি।’ (সূরা আনকাবুত-২৯ : ৬৯) আমরা যদি শান্তি ও কল্যাণের পথে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করি তাহলে আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। তিনিই আমাদের সাহায্য করবেন। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দরকার শুধু অদম্য আগ্রহ ও মনোবলের সাথে চেষ্টা করে যাওয়া।

চার. গুনাহ ক্ষমা করানো : হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি তার জন্য ধ্বংস। জিবরাইল আ: তাদের জন্য বদদোয়া করেছেন আর রাসূল সা: তাঁর এই বদদোয়ায় আমিন বলেছেন। অতএব, অলস বসে থাকার সুযোগ নেই। রমজানজুড়ে তাওবা-ইসতিগফার করত, আল্লাহ তায়ালা থেকে গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে হবে। এমন রমজান পেয়েও যদি গুনাহ মাফ না করাতে পারি, তাহলে এর চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউ হবে না।

পাঁচ. এটাকেই জীবনের শেষ রমজান মনে করা : কত রমজান হেলায় খেলায় চলে গেছে। আরো একটি রমজান আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন। কে জানে হয়তো এটিই জীবনের শেষ রমজান। চারপাশে একটু চোখ বুলিয়ে দেখলেই বুঝতে পারব, অনেক লোক এমন ছিলেন, যাদের সাথে আমরা গত রমজানগুলো কাটিয়েছি। কিন্তু তারা এখন নেই। কবরে শুয়ে আছেন। সুতরাং আমি যে আগামী রমজান পাব, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।তাই রমজানের একটি সেকেন্ডও অনর্থক নষ্ট না করে, সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করে, নিজের আখের গুছিয়ে নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুল হিকমাহ আল-ইসলামিয়াহ, উত্তরা, ঢাকা।