২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সৌদি আরব নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। এ তথ্য প্রকাশের পর রিয়াদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে সম্প্রতি একটি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মাসে কংগ্রেসে পাঠানো কয়েকটি গোপন নথিতে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নথিগুলো এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
এ বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।
যে সময়টায় সৌদি আরবে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প শুরুর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনায় রয়েছে, ঠিক এই সময়ই গোপন গোয়েন্দা নথিগুলো আইনপ্রণেতাদের কাছে পৌঁছায় ব্যাপক আলোচনা ও কানাঘোঁষার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে এ অংশীদারত্ব দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সৌদি আরব যাতে রাশিয়া বা চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছে মার্কিন এই প্রশাসন।
এদিকে গোয়েন্দা মূল্যায়ন তথ্য নিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার। তবে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের আগের একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। ওই বক্তব্যে মন্ত্রী বলেছিলেন, সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’। একই সঙ্গে ‘দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মান’ বজায় রেখেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির প্রাথমিক শর্তে সৌদি আরবকে ৫ শতাংশের কম মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলাদা একটি চুক্তির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে এই সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করলে অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদান উৎপাদনের দিকে সৌদি আরব প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময় ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার পথও সহজ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ