☰
✕

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য সতর ঢেকে রাখা আবশ্যক

০১ অক্টোবর, ২০২৬

মানুষের মানবিক লজ্জা, শালীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হলো পোশাক। পাশাপাশি এটি মহান আল্লাহর হুকুম পালনেরও একটি মাধ্যম।

কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই লজ্জাস্থান ও সতর ঢেকে রাখা অলঙ্ঘনীয় ফরজ বিধান। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমের সন্তান-সন্ততি! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, যা তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা আবৃত করে এবং তা শোভাস্বরূপ। বস্তুত তাকওয়ার যে পোশাক, সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।

’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২৬)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, গুপ্তাঙ্গ আবৃত করা পোশাকের আসল লক্ষ্য। এটাই সাধারণ জন্তু-জানোয়ার থেকে মানুষের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। পাশাপাশি শরিয়ত সমর্থিত যৌক্তিক কারণ ছাড়া অন্যের সামনে উলঙ্গ হওয়া বা সতর (আল্লাহ যেসব অঙ্গ ঢেকে রাখা ফরজ করেছেন) খোলা চূড়ান্ত হীনতা ও নির্লজ্জতার লক্ষণ এবং নানা প্রকার অনিষ্টের ভূমিকাও বটে। তাই তো শয়তান মানবজাতির পোশাকের ওপরই সর্বপ্রথম হামলা করেছিল।

তার প্ররোচনায় নিষিদ্ধ ফল খাওয়ায় হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পোশাক খসে পড়েছিল। অতএব মুমিনের উচিত মহান আল্লাহর ফরজ করা এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া। আমাদের সমাজের সচেতন নারীরা এ ব্যাপারে সতর্ক হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা এ ব্যাপারে উদাসীন হয়। কারণ অনেকে ধারণা করে, পর্দা ও পোশাকের শালীনতা বুঝি শুধু নারীদের জন্যই প্রযোজ্য। অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ দৃষ্টি সংযত রাখা এবং লজ্জাস্থানের সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমে পুরুষদেরই সম্বোধন করেছেন।


তিনি বলেছেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।’ (সুরা : আন-নূর, আয়াত : ৩০)

পুরুষের সতরের শরয়ি সীমা ও সংশ্লিষ্ট বিধান : ফিকহে হানাফির সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, একজন বালেগ (সাবালক) পুরুষের সতরের আবশ্যকীয় সীমা হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত (হাঁটুসহ)। এ অংশটুকু সর্বাবস্থায় ঢেকে রাখা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের ওপর ফরজে আইন। (জামিউল মাসানিদ লিআবি হানিফা : ১/৩৫৩, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৫৯০-৫৯১)

অনেকে অজ্ঞতাবশত মনে করেন পুরুষের জন্য শুধু গোপন অঙ্গ ঢেকে রাখাই যথেষ্ট, কিন্তু বাস্তবতা হলো মহানবী (সা.) ঊরুকেও সতরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, যুরআহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনু জারহাদ (রহ.) থেকে তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, এই জারহাদ আসহাবে সুফফার অন্যতম সদস্য ছিলেন। একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট বসলেন, আমার ঊরুদেশ তখন অনাবৃত ছিল। তিনি বললেন, তুমি কি জানো না যে ঊরুদেশ গোপন অঙ্গ? (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০১৪)

অন্য হাদিসে পুরুষের সতরের সাধারণ সীমারেখা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত পুরুষের সতর। (জামিউল মাসানিদ ও সুনানে দারাকুতনী)

এই  হাদিসগুলো দ্বারা বোঝা যায়, মুসলিম পুরুষের জন্য এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ, যা দ্বারা অন্যের সামনে সতর খুলে যায়। তা ছাড়া এ ধরনের পোশাক পরে জনসমক্ষে ঘোরা ইসলামের দৃষ্টিতে শালীনতার মধ্যেও পড়ে না।

একসময় কিছু কিছু অমুসলিম দেশেও এই প্রবণতাকে ভালো চোখে দেখা হতো না; কিন্তু যুগের পরিবর্তনে এখন অনেকের কাছেই তা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কোনো ঈমানদারের জন্য বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, যেহেতু এটি একটি ফরজ বিধান। অতএব, মুমিনের উচিত সতর ঢেকে রাখার বিষয়ে নিজেও সতর্ক হওয়া এবং পরিবার-পরিজনদেরও সতর্ক করা। মনে রাখতে হবে, লজ্জাশীলতা ও শালীনতা ঈমানের প্রধান অলংকার, যা নষ্ট করার জন্য শয়তান বিভিন্ন রূপে নতুন নতুন ফন্দি আঁটে। মহান আল্লাহ সবাইকে শয়তানের ধোঁকা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।