০১ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়াতে এবার একযোগে দেশব্যাপী বৃহৎ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে এই রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে সর্বমোট ২৩টি সদস্য দলের মধ্যে ২১টি দল অংশ নেয়। বৈঠকটিতে ২০টি দলের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। তবে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে)-এর প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।
ভোটাধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ও কাঠামোগত নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিরোধীরা। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২ থেকে ৮ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’, ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘেরাও, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকপত্র পেশ, অক্টোবর–নভেম্বরে দেশের ৫টি প্রধান শিল্প ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে জনসভা এবং আগামী বছরের পহেলা জানুয়ারি দিল্লিতে বিরোধী জোটের কেন্দ্রীয় সমাবেশ।
সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কাঠামোর ভেতরেই দীর্ঘ দিন ধরে প্রবল মতভেদ চলছিল। ইসিআইনেট প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীকরণ এবং ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম ৬ -এ একতরফা পরিবর্তনের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১০ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। কমিশনের ভেতরের এই অনিয়মের খবর সামনে আসতেই সরব হয় বিরোধী শিবির।
বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের মোদি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি সুর চড়ান বিরোধী নেতারা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিইসি-র পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “বাংলায় ওরা লুট চালিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার একজন চোর, উনি ইভিএম পুড়িয়ে ধ্বংস করেছেন। ওনাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, না হলে আমাদের আন্দোলন আরো তীব্রতর হবে।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে অভিযোগ করেন, “মোদি ও শাহ নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের হাতের পুতুল বানিয়ে রেখেছেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে এমন কয়েকজনকে বসানো হয়েছে যারা সরাসরি ভোট চুরিতে বিজেপিকে সহায়তা করছেন।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “যারা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন, তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে। ভারতের গণতন্ত্র যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড়।”