০১ অক্টোবর, ২০২৬
রেকর্ড তাপমাত্রা ও কম তুষারপাতের কারণে ভয়াবহ হারে বরফ হারাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ।২০২৬ সালে দেশটির হিমবাহগুলো মোট বরফের ৫ শতাংশেরও বেশি হারিয়েছে।
গত পাঁচ বছরেই দেশটির হিমবাহগুলোর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ গলে গেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের ক্রায়োস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর হিমবাহ গলার হার ছিল অত্যন্ত বেশি। শীতকালে পর্যাপ্ত তুষারপাত না হওয়া এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রা—দুইয়ের প্রভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হুস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম মাত্রায় বরফ গলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। তার মতে, হিমবাহগুলো যেভাবে দ্রুত গলে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ইউরোপের বরফাঞ্চলগুলোর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেচ হিমবাহ এ বছর তার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। অন্যদিকে, গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরোঁর গড় পুরুত্ব চার মিটারেরও বেশি কমেছে।
কয়েক বছর আগেও এমন মাত্রার বরফ গলা অকল্পনীয় ছিল বলে জানিয়েছেন হুস।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি বরফ গলে বের হয়েছে। এই পরিমাণ দেশটির পরিবারগুলোর এক বছরের মোট পানীয় জলের ব্যবহারের চার গুণেরও বেশি।
হিমবাহের বরফ গলে যাওয়ায় গ্রীষ্মকালে পানির ঘাটতি কিছুটা কমে। তবে হিমবাহের আকার ক্রমেই ছোট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই সুবিধাও কমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।
২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো আরও ভয়াবহ মাত্রায় বরফ হারিয়েছিল। সে বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর স্তর তুষারের ওপর জমে বরফ গলার গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম বরফ গলার ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে।
গবেষকদের মতে, হিমবাহ দ্রুত সংকুচিত হওয়ার প্রভাব শুধু পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।