☰
✕

ই-ভিসা চালু করলো তুর্কমেনিস্তান

০২ অক্টোবর, ২০২৬

বিদেশিদের জন্য ইলেকট্রনিক ভিসা বা ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে দীর্ঘদিন প্রায় বন্ধ থাকা মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তান।বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়। কয়েক দশকের বিচ্ছিন্নতার পর চলতি বছর পর্যটকদের জন্য ধীরে ধীরে নিজেদের দরজা খোলার চেষ্টা করছে দেশটি।

মরুভূমিতে ঘেরা এবং ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত থাকা তুর্কমেনিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় ও বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রগুলোর একটি। দেশটির রাজধানী আশগাবাতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী এই দেশে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

তুর্কমেনিস্তানের অভিবাসন সেবা এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন ডিজিটাল সেবার ফলে বিদেশি নাগরিকরা দেশটিতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সময় বাঁচাতে পারবেন। একই সঙ্গে কাগজপত্রের কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় নেওয়া হবে এবং সব আনুষ্ঠানিকতা আরও দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তুর্কমেনিস্তান গত বছরই ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে তখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তা চালু করা হলো।

পর্যটনের দরজা কতটা খুলছে?

কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত তুর্কমেনিস্তান মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন। মধ্য এশিয়ার অন্য চার দেশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো তুর্কমেনিস্তানও ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।

দেশটির আয়তনের বড় অংশ মরুভূমি হলেও রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাস। এসব আকর্ষণ কাজে লাগিয়ে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চায় তুর্কমেনিস্তান।

তবে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের গ্যাসসমৃদ্ধ দেশটিতে পর্যটনের পরিমাণ এখনো খুবই কম। নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু হলেও বিদেশিদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা সহজ হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ দেশটিতে বিদেশিদের ভ্রমণ ও চলাচল এখনো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তুর্কমেনিস্তানের একজন অভিবাসন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এএফপিকে ফোনে বলেন, নতুন ব্যবস্থা দেশটিতে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ বাড়াতে উৎসাহিত করবে। সরকারি কর্মচারীদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, এখন থেকে বিদেশি নাগরিকদের ই-ভিসার আবেদন করতে আর কনস্যুলার কার্যালয়ে সরাসরি যেতে হবে না। তারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় রাষ্ট্রগুলোর একটা

স্বাধীনতার পর তুর্কমেনিস্তান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিদেশিদের প্রবেশ, সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির ওপরও দীর্ঘদিন ধরে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও দেশটির অবস্থান অত্যন্ত নিচে। চলতি বছরের রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে তুর্কমেনিস্তানের অবস্থান ১৭৩তম।

ফলে ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু হলেও এটি তুর্কমেনিস্তান কতটা বাস্তবে বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে, সেই প্রশ্নের পুরো উত্তর দিচ্ছে না। বরং কয়েক দশকের বিচ্ছিন্নতার পর পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য দেশটি সীমিত পরিসরে নতুনভাবে নিজেকে উন্মুক্ত করার যে চেষ্টা শুরু করেছে, ই-ভিসা ব্যবস্থা তারই একটি নতুন পদক্ষেপ।