☰
✕

কিয়েভের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও রুশ হামলা, যান চলাচল বন্ধ

০৩ অক্টোবর, ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুতে আবারও হামলা চালানো হয়েছে।শনিবার সকালে রুশ হামলায় কিয়েভের উত্তর সেতু বা নর্দার্ন ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।  

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণ সেতুতে একাধিক রুশ ড্রোন হামলার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ক্লিৎসকো জানান, শনিবারের হামলায় নর্দার্ন ব্রিজের সড়কের অংশ এবং ট্রলিবাসের ওপরের বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার পর সেতুটির ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি সেবাদাতা দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার সকালে কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর নর্দার্ন ব্রিজে হামলার খবর আসে। স্থানীয় সময় ভোরের দিকে ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি হয়েছিল। পরে মেয়র ক্লিৎসকো জানান, সেতুটিতে আঘাত হেনেছে এবং জরুরি পরিষেবাগুলো সেখানে যাচ্ছে।

হামলায় হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

একের পর এক সেতুতে হামলা

নর্দার্ন ব্রিজে হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে কিয়েভের দক্ষিণ সেতুতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার ওই সেতুর অবকাঠামোর কাছে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। পরে রাতে এবং শুক্রবারও সেতুটিতে আরও হামলা হয়।

এতে সেতুর একটি অংশ, সড়কের পৃষ্ঠ এবং মেট্রো লাইনের সুরক্ষা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হামলার পর দক্ষিণ সেতু দিয়ে যানবাহন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়। বিকল্প সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয় এবং অনেক মানুষকে গণপরিবহনের পরিবর্তে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

কিয়েভের দক্ষিণ ও উত্তর সেতু- দুটিই ডিনিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত এবং রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

নগরীর বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা প্রতিদিন এসব সেতু ব্যবহার করেন। ফলে সেতুগুলোতে হামলা ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবন ও নগর পরিবহনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি খুবই সংকটজনক 

দক্ষিণ সেতুতে ধারাবাহিক হামলার পর শুক্রবার কিয়েভের প্রতিরক্ষা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের পর মেয়র ক্লিৎসকো বলেন, রাজধানী এখন ‘খুবই নাটকীয় পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে।

তিনি জানান, রুশ হামলায় কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসিক এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব হামলার কারণে শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্রমেই ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হামলায় কিয়েভের একাধিক সেতুতে যান চলাচল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর সড়কব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিনিপ্রো নদীর ওপর থাকা তিনটি সেতুতে আকাশপথের হামলার পর সেগুলোর কোনওটি আংশিক, আবার কোনওটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মস্কোর দাবি, পাল্টা হামলার অংশ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করে আসছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে আসছে। রাশিয়া একই সঙ্গে দাবি করে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের আকাশপথের হামলা আরও তীব্র হয়েছে।

যানজট ও জনজীবনে বড় প্রভাব

দক্ষিণ সেতুতে হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

এর মধ্যে নর্দার্ন ব্রিজেও হামলা হওয়ায় রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও চাপে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সেতুটি কখন আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে, তা মূল্যায়ন করছে।

কিয়েভে সাম্প্রতিক সময়ে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটল। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা এবং শীতের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।