☰
✕

দাঁতের সৌন্দর্যে ব্রেস ব্যবহারে শরয়ী বিধান

০৫ অক্টোবর, ২০২৬

মানুষ স্বভাবগতভাবেই সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করে। ইসলামও সৌন্দর্যচর্চাকে নিরুৎসাহিত করেনি; বরং পরিচ্ছন্নতা ও শোভনতার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। তবে সৌন্দর্যের নামে আল্লাহর সৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

দাঁতের সৌন্দর্য ও গঠন ঠিক রাখতে বর্তমানে ব্রেসসহ বিভিন্ন দন্তচিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, দাঁত সোজা করার জন্য ব্রেস ব্যবহার শরিয়তসম্মত কি না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছি।’ সূরা তিন: ৪। অন্য আয়াতে ইবাদতের সময় সৌন্দর্য ও শোভা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।’ সহিহ মুসলিম: ৯১।

তবে সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে দাঁতের স্বাভাবিক গঠনে অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ। সহিহ বোখারির একটি হাদিসে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দাঁতের মাঝে কৃত্রিম ফাঁক তৈরির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ইসলামি আইনবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চিকিৎসা, রোগ নিরাময় কিংবা শারীরিক ত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে শরীরের কোনো অংশের পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ সৌন্দর্যচর্চার মধ্যে পড়ে না। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি (রহ.) ও ইমাম নববি (রহ.)-এর ব্যাখ্যাতেও চিকিৎসা ও ত্রুটি দূর করার ক্ষেত্রে বৈধতার কথা এসেছে।

তাই দাঁত অতিরিক্ত বাঁকা বা উঁচু-নিচু হলে, চোয়ালের গঠনগত সমস্যার কারণে দাঁতের অবস্থান অস্বাভাবিক হলে কিংবা দাঁতের কারণে খাওয়া, কথা বলা বা স্বাভাবিক সৌন্দর্যে গুরুতর সমস্যা তৈরি হলে ব্রেস বা প্রয়োজনীয় দন্তচিকিৎসা নেওয়া জায়েজ বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি আইনবিদরা। এর উদ্দেশ্য নতুন সৌন্দর্য তৈরি করা নয়, বরং ত্রুটি সংশোধন ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।

অতএব, চিকিৎসাগত প্রয়োজন বা স্পষ্ট ত্রুটি সংশোধনের জন্য দাঁত সোজা করতে ব্রেস ব্যবহার শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে কেবল স্বাভাবিক দাঁতকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিবর্তন করে সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্দেশ্য হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হবে।