☰
✕

সালাতুত তাওবা : গুনাহের পর ফিরে আসার সুন্দর পথ

০৭ অক্টোবর, ২০২৬

মানুষ ফেরেশতা নয়। জীবনের পথ চলতে গিয়ে তার দ্বারা ভুল-ত্রুটি ও গুনাহ হয়ে যেতে পারে। কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায়, কখনো অসতর্কতায়, আবার কখনো শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ এমন কাজে জড়িয়ে পড়ে, যা তার রব পছন্দ করেন না। কিন্তু একজন মুমিন কখনো গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর হতাশ হয়ে পড়ে থাকে না; বরং নিজের ভুল উপলব্ধি করে দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। আল্লাহ বান্দাকে তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)

সালাতুত তাওবা কী?

সালাতুত তাওবা হলো গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা করার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা। এটি বান্দার জন্য নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে ফিরে আসার একটি সুন্দর সুযোগ। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।

’ এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের ওপর জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে...।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)

যেভাবে আদায় করবেন সালাতুত তাওবা

সালাতুত তাওবা মূলত দুই রাকাত নফল নামাজ। এর জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সূরা বা বিশেষ কিরাআত নির্ধারিত নেই। সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত আদায় করা যায়। গুনাহ হয়ে গেলে প্রথমে সম্ভব হলে অজু করে নিতে হবে।

এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাওবার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষে নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।

তাওবা কবুলের শর্ত

প্রথমত, গুনাহ ত্যাগ করা। যে গুনাহের জন্য তাওবা করা হচ্ছে, তা সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অনুতপ্ত হওয়া। নিজের ভুলের জন্য অন্তরে লজ্জা ও অনুশোচনা সৃষ্টি হতে হবে। গুনাহ করে আনন্দিত থাকা আর তাওবা করা একসঙ্গে হতে পারে না।

তৃতীয়ত, পুনরায় গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। তাওবার সময় অন্তরে এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত থাকতে হবে যে ভবিষ্যতে আর সেই গুনাহে ফিরে যাব না।

চতুর্থত, মানুষের হক নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া। কারো সম্পদ আত্মসাৎ করলে তা ফেরত দিতে হবে, কারো ওপর জুলুম করলে যথাসম্ভব তার প্রতিকার করতে হবে। কারণ বান্দার অধিকার শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় না।

মানুষ যত বড় গুনাহই করুক, জীবিত অবস্থায় আন্তরিক তাওবার দরজা তার জন্য খোলা। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

এ আয়াত মুমিনের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। মানুষ গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়; কিন্তু গুনাহের পর নিজের ভুল বুঝে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের সৌন্দর্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে উত্তম হলো যারা বেশি তাওবা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)

সালাতুত তাওবা মুমিনের জন্য আল্লাহর অসীম রহমতের লাভের একটি সুন্দর মাধ্যম। গুনাহ মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর তাওবা তাকে আবার রবের নৈকট্যের পথে ফিরিয়ে আনে। তাই কোনো গুনাহ হয়ে গেলে শয়তানের প্ররোচনায় হতাশ হয়ে পড়া নয়; বরং অজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।