০৯ অক্টোবর, ২০২৬
জুমার দিন দোয়া কবুলের মুহূর্তে বেশি বেশি পড়ুন এ দোয়াটি:
اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ ওয়া কিনা আযাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।
দোয়াটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এ দোয়াটি পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। নবীজি (সা.) দোয়াটি পছন্দ করতেন এবং সবচেয়ে বেশি করতেন। (সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯) কারণ এ দোয়াটিতে একইসাথে দুনিয়ার কল্যাণ, আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়েছে এবং জাহান্নাম থেকেও মুক্তি প্রার্থনা করা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ‘জাওয়ামে’ অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বা সব মুসলমানদের কল্যাণ প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত থাকে এমন দোয়া পছন্দ করতেন এবং এ রকম দোয়া ছাড়া অন্যান্য দোয়া পরিহার করতেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৮২)
একজন মুসলমানের যেমন দুনিয়াদার হওয়ার সুযোগ নেই, শুধু দুনিয়ার জীবন-সর্বস্ব চিন্তা ভাবনা, কাজকর্ম করার সুযোগ নেই, দুনিয়াবিরাগী হওয়ার শিক্ষাও ইসলাম দেয় না। ইসলাম আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলে, পাথেয় সংগ্রহ করতে বলে দুনিয়ায় উত্তমরূপে জীবন যাপনের মাধ্যমে, দুনিয়া ত্যাগ করে বা দুনিয়ার জীবনে, সংসারে অমনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে নয়। দুনিয়ার জীবনে দায়িত্বশীলতা, স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহের জন্য মানুষ যে পরিশ্রম করে, উপার্জন করে আল্লাহর কাছে তাও নেক কাজ হিসেবেই গণ্য হয়।
তাই দোয়া করার সময়ও আখেরাতের কল্যাণের পাশাপাশি দুনিয়ার কল্যাণও প্রার্থনা করা উচিত। এটাই সুন্নত ও নবীজির (সা.) শিক্ষা। আল্লাহর কাছে আখেরাতের বদলে দুনিয়ার শাস্তি বা দুনিয়ার অকল্যাণ প্রার্থনা করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার খুব অসুস্থ এক ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি দোয়া করেছিলাম, আল্লাহ যেন আমাকে আখিরাতে শাস্তি না দিয়ে আমার অপরাধের শাস্তি এই দুনিয়াতেই দিয়ে দেন!
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ওই শাস্তি সহ্য করার ক্ষমতা আপনার নেই। আপনি বরং দোয়া করুন, হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন! (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯৪১)
জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিনের একটি বিশেষত্ব হলো এই দিনে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে যে কোনো দোয়া কবুল হয়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি এ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র কাছে কিছু চায়, তা হলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন। (সহিহ বুখারি: ৯৩৫)
এ বিশেষ মুহূর্তটি কখন এ নিয়ে আলেদের দু’টি মত পাওয়া যায়:
১. জুমার খুতবা ও নামাজের সময়
অনেকের মতে জুমার দিন দোয়া কবুলের সময় হলো, জুমার নামাজের সময় ইমামের বের হওয়া অর্থাৎ খুতবা শুরু করা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।
এই মতের পক্ষে দলিল সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনা:
আবু বুরদা ইবনে আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার পিতাকে জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছেন সেই বিশেষ মুহূর্তটি হলো ইমামের বসা থেকে সালাত শেষ করার মধ্যবর্তী সময়টুকু। (সহিহ মুসলিম: ১৮৪৮)
২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.), ইমাম আহমদ (রহ.) সহ বেশিরভাগ সাহাবী ও আলেমের মত হলো জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময় আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
এই মতের পক্ষে দলিল রাসুলের (সা.) এই হাদিস:
রাসুল (সা.) বলেন, জুমার দিনে এমন বারটি মুহূর্ত রয়েছে, এমন কোন মুসলিম বান্দা পাওয়া যাবে না, যে ঐ মূহূর্তগুলোতে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে, কিন্তু তাকে তা দেওয়া হবে না। অতএব, তোমরা ঐ মূহূর্তগুলোকে আসরের পর শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর। (সুনান আন নাসাঈ: ১৩৯২) এ ছাড়া আরও কিছু হাদিস ও আসার আছে এর পক্ষে।
ইবনু আবদিল বার রহ. বলেন, কেউ যদি উল্লিখিত দু’টি সময়েই আল্লাহর কাছে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য দোয়া করে, তাহলে সে আশাহত হবে না।
এরপরও যেহেতু ওই সময় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে আমরা কিছু জানি না, তাই আমাদের উচিত জুমার পুরো দিনই আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে থাকা, বিশেষ করে জুমার সময় ও আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টুকুতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেহেতু এই দু’টি সময়ের কথা কিছু হাদিসে বিশেষভাবে উল্লিখিত হয়েছে।