☰
✕

দীর্ঘক্ষণ জুতা পরে থাকলে পায়ে দুর্গন্ধ হয় কেন, সমাধান কী

১০ অক্টোবর, ২০২৬

দীর্ঘ সময় বন্ধ জুতা পরে থাকলে পায়ে দুর্গন্ধ হওয়া বেশ পরিচিত একটি সমস্যা। পরিষ্কার পা থেকেও এ ধরনের গন্ধ তৈরি হতে পারে। এর প্রধান কারণ ঘাম, ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং জুতা-মোজার ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কিংবা প্রতিদিন একই জুতা পরার অভ্যাস থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

সাধারণত শুধু ঘামের কারণে পায়ে দুর্গন্ধ হয় না। বরং জুতার ভেতরে উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হলে ব্যাকটেরিয়া ঘামের উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি করে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরও গন্ধ না কমলে বা এর সঙ্গে ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

জুতার ভেতরে পায়ে দুর্গন্ধ তৈরি হয় কেন?

মানুষের পায়ের ত্বকে প্রচুর ঘর্মগ্রন্থি রয়েছে। ঘাম নিজে সাধারণত গন্ধহীন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ মোজা ও বন্ধ জুতার মধ্যে ঘাম আটকে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব ব্যাকটেরিয়া ঘামের উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ তৈরি করে।

বন্ধ জুতার ভেতরে বাতাস চলাচল কম হওয়ায় তাপ ও আর্দ্রতা জমে থাকে। এই পরিবেশ ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। ফলে কয়েক ঘণ্টা জুতা পরে থাকার পর পায়ের দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে পা ও জুতা শুকনো রাখা, বাতাস চলাচল করে এমন জুতা ব্যবহার এবং ভেজা মোজা দ্রুত পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারও কারও পায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয় কেন?

সব মানুষের ঘামার পরিমাণ এক নয়। কারও কারও পায়ের ঘাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়। এ অবস্থাকে প্ল্যান্টার হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে মোজা ও জুতা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে দুর্গন্ধের তীব্রতাও বাড়তে পারে।

পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার পেছনে আরও যেসব কারণ থাকতে পারে, সেগুলো হলো—

দুর্গন্ধ কি ছত্রাক সংক্রমণের লক্ষণ?

পায়ে দুর্গন্ধ হলেই যে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে, তা নয়। তবে গন্ধের পাশাপাশি ত্বকে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

অ্যাথলেটস ফুট বা টিনিয়া পেডিস নামের ছত্রাকজনিত সংক্রমণে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—

পায়ে চুলকানি।

উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধি সহজ হয়। তাই ঘামে ভেজা পা এবং দীর্ঘক্ষণ বন্ধ জুতা পরে থাকার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত দুর্গন্ধের আরেক কারণ পিটেড কেরাটোলাইসিস

নিয়মিত পা ধোয়া ও মোজা পরিবর্তনের পরও যদি তীব্র দুর্গন্ধ থেকে যায়, তবে এর পেছনে পিটেড কেরাটোলাইসিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের সমস্যা থাকতে পারে।

এ অবস্থায় পায়ের তলায়, বিশেষ করে চাপ পড়ে এমন জায়গায়, ছোট ছোট গর্ত বা খাঁজ তৈরি হতে পারে। আক্রান্ত স্থানে তীব্র দুর্গন্ধও দেখা দিতে পারে। পা দীর্ঘ সময় ঘামে ভেজা থাকলে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই পায়ের তলায় ছোট গর্ত, ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বারবার ফিরে আসা দুর্গন্ধ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো।

প্রতিদিন একই জুতা পরলে কি দুর্গন্ধ বাড়ে?

হ্যাঁ, একই জুতা প্রতিদিন পরলে পায়ের দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। কারণ জুতার ভেতরে জমে থাকা ঘাম ও আর্দ্রতা পুরোপুরি শুকানোর জন্য সময় প্রয়োজন। জুতা শুকানোর আগেই আবার ব্যবহার করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের টিকে থাকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে যাদের পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হয় বা যাদের দীর্ঘ সময় বন্ধ জুতা পরে থাকতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে একাধিক জোড়া জুতা পালা করে ব্যবহার করা এবং প্রতিবার ব্যবহারের পর জুতা ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।

পায়ের দুর্গন্ধ কমানোর সহজ উপায়

কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে পায়ের দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন—

১. প্রতিদিন পা পরিষ্কার করুন: নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন।

২. পা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন: ধোয়ার পর বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকগুলো শুকনো রাখুন।

৩. নিয়মিত মোজা পরিবর্তন করুন: প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরুন। ঘামে ভিজে গেলে প্রয়োজনে দিনের মধ্যেই মোজা বদলে নিন।

৪. উপযুক্ত মোজা বেছে নিন: আর্দ্রতা শোষণ করে এবং বাতাস চলাচলে সহায়তা করে, এমন মোজা ব্যবহার করুন।

৫. জুতা শুকিয়ে ব্যবহার করুন: ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জুতা আবার পরবেন না। ব্যবহারের পর বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকাতে দিন।

৬. জুতা পালা করে পরুন: সম্ভব হলে প্রতিদিন একই জুতা না পরে একাধিক জোড়া ব্যবহার করুন।

৭. দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকবেন না: ঘামে ভেজা মোজা ও জুতা যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করুন।

পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হলে অ্যালুমিনিয়াম সল্টযুক্ত অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ত্বকে জ্বালাপোড়া, ক্ষত বা সংবেদনশীলতা থাকলে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।