☰
✕

চাঁদাবাজি মামলায় জামিন নিয়ে বাদীকে হত্যার চেষ্টা!

১৩ অক্টোবর, ২০২৬

চাঁদাবাজির মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাদীকে আবার হত্যার চেষ্টা করেছে মামলার আসামিরা। মামলার বাদী একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী হয়েও এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার চাতৈইলাভিটি গ্রামের খায়রুল ইসলাম খোকন ঢাকার আদালতের একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী। গতকাল সোমবার ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার এবং তার পরিবারের লোকজনের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার বর্ণনা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী এবং তার পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বাদী জানান, তার প্রতিবেশী আল আমিন, মো. শাহিনুর, মোস্তফা, সাইফুল, জাকির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সিয়াম, কামরুল হোসেন, নুরুন্নাহার, জেসমিন শাহনাজ বেগম, মিতু, রোমান ও মানিক এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জন বাদীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের পায়তারা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন।

এ ঘটনায় বাদী গত ১৪ জুন গাজীপুর আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত চাঁদাবাজির ঘটনাটি গাজীপুরের শিল্প পুলিশকে তদন্তের নির্দেশদেন।

পুলিশ তদন্ত করে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু প্রতিবেশী যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান গত ৬ অক্টোবর। জামিন পাওয়ার খবর পেয়েই আসামিদের লোকজন বাদীর বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে এবং বাদীর বাড়িতে আগুন দেয়।

অন্যদিকে, বাদী আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সামনে তাকে আটকে বেদম মারধর করে। তাকে হত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাদীর বাবা ও অন্যরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাদেরও মারধর করে ও কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাদীকে প্রথমে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অন্যদিকে, বাদীর আত্মীয় মোহাম্মদ রিফাত হোসেন এ ঘটনায় মামলা করে কালিয়াকৈর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে ১৫ আসামি গত রবিবার গাজীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে আদালত জামিন দেন। দুই আসামি নুরুন্নাহার ও সেতু এই দুই জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাদী সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করেন, যাদের জামিন দেওয়া হয়েছে তারা জামিনে গিয়ে আবারও প্রকাশ্যে বাদী এবং তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।