১৩ অক্টোবর, ২০২৬
কাউকে নিয়ে কথা বলছেন, এমন সময় তিনি এসে হাজির হলেন। অথবা তাঁর কথা মনে করার কিছুক্ষণ পরই ফোন এল তাঁর। তখন অনেকেই মজা করে বলেন, ‘বেঁচে থাকবেন অনেক দিন, আপনার কথাই বলছিলাম!’ কথাটি আমাদের সমাজে বেশ প্রচলিত। সাধারণত আনন্দ বা বিস্ময় থেকেই এমন কথা বলা হয়। কিন্তু কাউকে স্মরণ করার পর তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া বা ফোন আসার সঙ্গে দীর্ঘায়ুর কি কোনো সম্পর্ক আছে? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
মানুষের আয়ু নির্ধারণ করেন আল্লাহ
ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষের জীবন ও মৃত্যুর সময় আল্লাহর নির্ধারণে। কাউকে স্মরণ করার পর তাঁর দেখা পাওয়া বা ফোন আসাকে দীর্ঘায়ুর লক্ষণ মনে করার কোনো ভিত্তি নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তাদের নির্ধারিত সময় এসে যায়, তখন তারা এক মুহূর্তও পিছাতে বা এগিয়ে নিতে পারে না।’ (সুরা আরাফ: ৩৪)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে না। এর সময় নির্ধারিত।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৪৫)
অর্থাৎ, এমন কোনো ঘটনার মাধ্যমে মানুষের আয়ু সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। কারও কথা মনে করার পর তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়া নিছক কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে।
এমন কথা বলা কি গুনাহ?
কেউ যদি মজা করে বা আনন্দ প্রকাশ করতে ‘বেঁচে থাকবেন অনেক দিন’ বলেন, তাহলে শুধু এ কথার কারণে গুনাহ হবে না বা তাঁকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলাও ঠিক হবে না। তবে কেউ যদি মনে করেন, এমন ঘটনা দীর্ঘায়ুর লক্ষণ বা এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু জানা যায়, তাহলে সেই বিশ্বাসের কোনো ইসলামি ভিত্তি নেই।
রাসুলুল্লাহ (স.) অশুভ লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন- ‘রোগের কোনো সংক্রমণ নেই, অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোনো অশুভ নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭০৭)
এ থেকে বোঝা যায়, ভালো কথা বলা এক বিষয়, আর কোনো ঘটনাকে ভবিষ্যতের লক্ষণ মনে করা আরেক বিষয়।
তাহলে কী বলা ভালো?
কাউকে স্মরণ করার পর তাঁর সঙ্গে দেখা হলে বা ফোন এলে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দ প্রকাশ করতে পারেন। তাঁর আয়ু নিয়ে মন্তব্য না করে বলতে পারেন, ‘আপনার কথাই বলছিলাম। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।’
এভাবে তাঁর জন্য দোয়া করাও যায়, ‘আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন এবং নেক আমলের সঙ্গে দীর্ঘ জীবন দান করুন।’
কারণ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার পাশাপাশি সেই জীবন ভালো কাজে ব্যয় করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব, ‘বেঁচে থাকবেন অনেক দিন’ কথাটি রসিকতা করে বললে তা কুসংস্কার হয়ে যায় না। তবে কাউকে স্মরণ করার পর তাঁর উপস্থিতি বা ফোন আসাকে দীর্ঘায়ুর লক্ষণ মনে করা ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য ভালো দোয়া করাই সবচেয়ে ভালো পন্থা।