নতুন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান ইউক্রেনের
ফাইল ছবি।
ভবিষ্যতে কোনও সশস্ত্র আগ্রাসন ঠেকাতে নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সোমবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রিই ইয়ারমাক। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
জেলেনস্কির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ইয়েরমাক লিখেছেন, রুশ আগ্রাসন ও বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব প্রতিরোধে কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এই কাঠামোর আওতায় সামরিক উপাদানের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক সহায়তা, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও থাকতে হবে।
৬৬টি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলে বলে জানিয়েছেন ইয়েরমাক। প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান করতে জেলেনস্কির শান্তি পরিকল্পনাকে কেন্দ্রে রেখে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যৎ আগ্রাসন প্রতিরোধের বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন বক্তারা।সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশের নাম প্রকাশ করেননি ইয়েরমাক।
চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে জেলেনস্কি তার ‘বিজয়ের পরিকল্পনা’ উপস্থাপন করবেন। এটি ২০২২ সালে তার করা শান্তি পরিকল্পনার পরিবর্তিত রূপ। সেই পরিকল্পনায় তিনি রুশ সেনা প্রত্যাহার ও ১৯৯১ সালের ইউক্রেনীয় সীমান্ত পুনরুদ্ধারের ছক কেটেছিলেন তিনি।
২০২৪ শেষ হওয়ার আগেই একটি ‘বিশ্ব সম্মেলন’ আয়োজন করতে চান জেলেনস্কি। সুইস সম্মেলনে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অবশ্য মস্কো থেকে বলা হয়েছে, এসব সম্মেলনের আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক আর ভবিষ্যতেও এধরণের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে না তারা।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের মিত্রদের সঙ্গে ‘বিজয়ের পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। এসময় আবারও রুশ লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি আদায়ে চেষ্টা করেছেন তিনি।
পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তেমন কিছু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জেলেনস্কি কেবল বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগে ইউক্রেনকে ‘ভূ-রাজনৈতিক ও যুদ্ধক্ষেত্রে’ শক্তিশালী করতে হবে।