জবির ৯ শিক্ষকসহ ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

জবির ৯ শিক্ষকসহ ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস-কে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষকসহ ২৫৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, কোতোয়ালি থানায় গত ২১ নভেম্বর এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১২। ঘটনাস্থল হিসেবে ঢাকা জেলার কোতয়ালী থানাধীন বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন সংশ্লিষ্ট এলাকা, কোর্ট হাউজ স্ট্রীট, ওয়ার্ড নং-৩৬, কোতয়ালী, ঢাকা, বাংলাদেশ, ১.৫ কিমি, উত্তর-পূর্ব দিক, বিট নং-০১, বাবু বাজার পুলিশ ফাঁড়ি উল্লেখ করা হয়।

মামলার যেসব শিক্ষকদের আসামি করা হয়- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের সাবেক সভাপতি এবং অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকারিয়া মিয়া, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ মাশরিক হাসান, সাবেক প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক প্রক্টর ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল, সাবেক সহকারী প্রক্টর নিউটন হাওলাদার, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুন নাহার লিপি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল কবির। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন অনিক। অনিককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর গত ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন অনিক।

পনেরো দিন হাসপাতালে থাকার পর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে অনিক-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়।

মামলার বাদী অনিক কুমার দাস বলেন, আপনারা জানেন- আমাকে গুলি করা হয়েছিল। আমি দীর্ঘদিন হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ছিলাম। এখনো শরীরে ব্যথা করে। আমি অবশ্যই এর ন্যায়বিচার চাই।

মামলায় শিক্ষকদের আসামি করার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এসব শিক্ষক আমাদের বিরোধিতা করেছেন। এখন মামলা করতে গেলে আপনা-আপনি তাদের নাম চলে আসে। তারা অবশ্যই তাদের (ছাত্রলীগ-যুবলীগ) সহযোগিতা করেছেন।