ফেসবুকে গাঁজা গাছের ছবি পোস্ট করে মূহুর্তেই ভাইরাল
ছবিঃ সংগৃহীত।
শখ করে মানুষ অনেক কিছুই করে। বিলাসবহুল দ্রব্য থেকে শুরু করে হিংস্র প্রাণী সবকিছুই আজকাল মানুষের শখের বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে শখ কখনও কখনও হয়ে দাঁড়ায় মানুষের বিপদের কারন। আবার অনেকেই শখের নামে চালায় অবৈধ ব্যবসার কারবার।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে। গাঁজা চাষ করে বিপাকে পড়েছেন এক দম্পতি। ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিজেদের বেলকনিতে ফুলের টবের গাঁজা চাষ করার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে এক দম্পতিকে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে। জানা যায়, সিকিমের বাসিন্দা কে.এ সাগর গুরুং (৩৭) এবং উর্মিলা কুমারি (৩৮) নামের উক্ত দম্পতি এম.এস.আর নগর এলাকায় একটি ফাস্ট ফুড আউটলেট পরিচালনা করেন। গাঁজা গাছের ছবি পোস্ট করে দম্পতিটি।
সম্প্রতি তাদের ফেসবুকে গাঁজা গাছের একটি ছবি পোস্ট করেন তারা। গাঁজা গাছগুলো তাদের বেলকনির সজ্জাসংক্রান্ত গাছপালার মধ্যে রেখেছিল এবং উর্মিলা সেগুলোর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। আর তাতেই বাঁধে বিপত্তি। ফেসবুকে ঐ দম্পতির এক অনুসারী গাঁজা গাছ চিনে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করেন, যার ফলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
বিষয়টি উর্মিলাকে যখন তার একজন আত্মীয় জানান যে পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি করতে আসছে, তখন তিনি দ্রুত গাছগুলো ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেন। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি দম্পতির। পুলিশ কিছু গাঁজার পাতা ময়লার ঝুড়ি থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে, এই দম্পতি স্বীকার করেন যে তারা গাঁজা চাষ করছিলেন এবং তা বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশ ৫৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে এবং তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস রিপোর্ট করেছে যে, এই দম্পতির গাঁজা চাষের সঙ্গে আরও কিছু বিষয় তদন্তাধীন। তাদের মোবাইল ফোনগুলো তদন্তের জন্য পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ তল্লাশির সময়, দম্পতি প্রথমে গাঁজা চাষের কথা অস্বীকার করেন, তবে শেষমেশ মুখ খুলতে বাধ্য হন।
গ্রেফতারের পর, ওই দম্পতিকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স (এনডিপিএস) অ্যাক্ট অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়।