বন্ধুর বিয়েতে যোগ দিতে বাংলাদেশে সৌদি নাগরিক
ফাইল ছবি
বন্ধুর বিয়েতে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন সৌদি আরবের নাগরিক আল ইব্রাহিম। তিনি এ দেশে এসে এখানকার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন।বাঙালি বন্ধু আব্দুল্লাহ ফারুকের সঙ্গে বন্ধন মজবুত করতে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সৌদি নাগরিত আল ইব্রাহিম। এরপর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তিনি হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামালপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও শাহানারা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ ফারুক গত ৮ বছর পূর্বে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তার বোন জামাই এমরান হোসেন পাটওয়ারীর মাধ্যমে সৌদির নাগরিক আল ইব্রাহিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সম্প্রতি আব্দুল্লাহ ফারুক দেশে ফিরলে একই উপজেলার বালিথুবা গ্রামের মেয়ে সামিয়া সুলতানার সঙ্গে তার বিয়ের দিন-তারিখ ধার্য হয়। আর ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে মারুফ সৌদি বন্ধু আল ইব্রাহিমকে আমন্ত্রণ জানান।
সৌদি নাগরিক ইব্রাহিম বলেন, বন্ধু আব্দুল্লাহ ফারুক যখন আমাকে বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে তার থেকে জেনেছি। সেই থেকে তার বিয়েতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। এতে আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বন্ধুর পরিবার বরণ করেছে। বাংলাদেশের এমন আতিথেয়তা, প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সবুজের সমারোহ আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠান শেষে চলে গেলেও আবারও এই দেশে আসার ইচ্ছে আছে।
প্রবাসী আব্দুল্লাহ ফারুক বলেন, জীবনের কঠোর বাস্তবতায় নিজ দেশ ও পরিবার ছেড়ে প্রবাস জীবন কাটাতে হয়। কিন্তু প্রবাসে যদি কর্মদক্ষতা ও সততাকে কাজে লাগাই, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। যিনি আমার বিয়েতে যোগ দিতে এসেছেন তার সঙ্গে পরিচয়ের পর বর্তমানে একইসঙ্গে ব্যবসা করছি। তিনি আমার আপন ভগ্নিপতির মালিক হলেও আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের।
মারুফ আরও বলেন, প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের মাধ্যমে কাজ করে। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করবে। এতে বাংলাদেশিরাই লাভবান হবে।