ভাঙ্গায় জামাই ও শ্বশুর গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
ছবি : প্রতীকি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জামাইয়ের পক্ষের সাথে শ্বশুরের পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মুনসুরাবাদ গ্রামের ইলিয়াস মাতব্বরের মেয়ে অন্তরা আক্তার (১৮) গ্রামের একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। এ সময় মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক জাহিদ মোল্লার (৩৮) সাথে অন্তরার প্রেমের সম্পর্ক হয়। জাহিদের আগে আরও দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রয়েছে। বছর দেড়েক আগে জাহিদ মোল্লা তার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তরাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। অন্তরা হন জাহিদের তৃতীয় স্ত্রী।
এ বিয়ে আজও মেনে নেয়নি অন্তরার বাবা ইলিয়াস মাতব্বর। জাহিদ মোল্লার বড় ভাই আলমগীর মোল্লা হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। জাহিদের তৃতীয় স্ত্রীর বাবা ইলিয়াস মাতব্বরের চাচাতো ভাই বাবর আলী মাতব্বর হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এ কারণে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে অনেকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে ইলিয়াস মাতব্বরকে একা পেয়ে তার জামাতা জাহিদ মোল্লার চাচাতো ভাই রাসেল মোল্লা কটাক্ষ করে বলে, আমার ভাই জাহিদ তিন বিয়ে করেছে। আরও একটা বিয়ে করিয়ে হালি (৪টি) পূরণ করবো।’ এ বিষয়ে ইলিয়াস মাতব্বর অপমানবোধ করে গ্রামে তার পক্ষের লোকজনকে জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে মুনসুরাবাদ বাজারে ইলিয়াস মাতব্বরকে মারধর করে জামাই জাহিদ মোল্লার লোকজন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় জামাই ও শ্বশুর পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা যায়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইলিয়াস মাতব্বরের চাচাতো ভাই কামরুল মাতব্বরের স্ত্রী চম্পা বেগম (৩২) ও ইলিয়াস মাতব্বরের ভাই রিয়াজ মাতব্বরকে (৪৩) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে ইলিয়াস মাতব্বরের আরেক ভাই ইকলাস মাতব্বর (৩৫)।
ইলিয়াস মাতব্বরের ভাই ইকলাস মাতব্বর বলেন, জাহিদ মোল্লা মাদ্রাসার শিক্ষক হয়েও তার মাদ্রাসার ছাত্রী আমার ভাতিজিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। এটা জাহিদের তৃতীয় বিয়ে। আমরা এ বিয়ে মেনে নেইনি। এ কারণে জাহিদের ভাইয়েরা আমাদের কটাক্ষ করে সবসময়। সর্বশেষ মঙ্গলবার আমার বড় ভাইকে কটাক্ষ করে। প্রতিবাদ করায় মারধর করে। বুধবারও আমাদের উপর জাহিদ ও তার বড় ভাই ইউপি সদস্য আলমগীর মোল্লার নেতৃত্বে তাদের লোকজন হামলা ও মারধর করে। কুপিয়ে জখম করে।
জাহিদের বড় ভাই ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর মোল্লা বলেন, ইলিয়াস মাতব্বরের মেয়ে স্বেচ্ছায় আমার ভাইকে বিয়ে করেছে। তারা সুখে আছে। কিন্তু ইলিয়াস মাতব্বর এ বিয়ে মেনে না নিয়ে আমাদের সাথে বিরোধ চালিয়ে আসছিল। সামান্য বিষয় নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, জাহিদকে তার ভাইয়েরা আরও একটি বিয়ে করাবে, এ কথা জাহিদের স্ত্রীর বাবা ইলিয়াস মাতব্বরের সামনে বলা নিয়ে কথা কাটাকাটি, মারপিট ও সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।