বরিশালে বিএনপিপন্থীদের আইনজীবী সমিতি দখল

বরিশালে বিএনপিপন্থীদের আইনজীবী সমিতি দখল

ফাইল ছবি

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বরিশাল আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দখল করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

বুধবার (১ জানুয়ারি) সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে বিশেষ সভা ডেকে পূর্বের নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। এতে ১১টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০ পদে বিজয়ী নেতারা পদ হারান।

এরপর পরাজিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষণা করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সমিতির ব্যানার ব্যবহার করে আওয়ামীপন্থীরা বেপারোয়া হয়ে ওঠায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নতুন কমিটির নেতারা।

অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩৩ দিন আগে তা বাতিল করা; পুরোপুরি সমিতির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটি অবৈধ।

পূর্বের আওয়ামীপন্থী কমিটির নেতারা গত ১০ মাস ধরে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১টি পদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সভার সিদ্ধান্তে বরিশাল আইনজীবী সমিতির নতুন সভাপতি হলেন সাদিকুর রহমান লিংকন ও সাধারণ সম্পাদক মীর্জা রিয়াজ।

আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাইউম খান কায়সার বলেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা যা করেছেন তা সমিতির গঠনতন্ত্র বহির্ভূত। তাদের ঘোষিত কমিটিও অবৈধ।

আইনজীবী সমিতির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা খান মোর্শেদ বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। ফেব্রুয়ারির শেষ কর্ম দিবসে বার্ষিক সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করা হবে। পরে নির্বাচিত নতুন নেতাদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর হবে। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অবৈধভাবে ইচ্ছেমতো সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন।

বুধবার ঘোষিত বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপি হয়েছিল। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রতিবাদ করলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমরাও (বিএনপিপন্থীরা) পূর্বের কমিটি বহালের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা এই কমিটিকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ আইনজীবীরা আগের কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। নতুন কমিটি আগামি ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। এতে আইনগত এবং গঠনতান্ত্রিক কোন বাধা নেই।