মৃত্যুর আগে দায়ী ব্যক্তির নাম স্ত্রীকে জানিয়ে গেলেন স্বামী
ফাইল ছবি
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার সানোয়ার হোসেন (২৮) মৃত্যুর আগে এক খুদে বার্তা পাঠিয়ে যান তার স্ত্রীকে। সেই বার্তায় লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য ফারুক ব্যাপারী দায়ী’। এই বার্তা থেকেই শুরু হয় এক রহস্যের।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর সানোয়ার হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর পর, পরিবারের সদস্যরা প্রথমে এ বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করলেও, পরবর্তীতে সানোয়ারের স্ত্রী একটি সন্দেহজনক খুদে বার্তা দেখতে পান। ওই বার্তায় তার স্বামী সানোয়ার তার মৃত্যুর জন্য ফারুক ব্যাপারী নামক এক ব্যক্তিকে দায়ী করে যান। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর, সানোয়ারের পরিবারে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা মনে করেন যে সানোয়ারের মৃত্যু সাধারণ নয়, বরং এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
খুদে বার্তায় রহস্যের সূচনা
সানোয়ারের মৃত্যুর কয়েকদিন পর তার স্ত্রী মোবাইলে একটি খুদে বার্তা পান। ওই বার্তায় সানোয়ার তার মৃত্যুর জন্য ফারুক ব্যাপারী নামক এক ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন। এরপর সানোয়ারের পরিবার ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়, এবং তারা মনে করেন যে সানোয়ারের মৃত্যুতে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে।
এ ঘটনায় সানোয়ারের ভাই মো. দেলুয়ার মিয়া ৭ ডিসেম্বর নেত্রকোনার আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন, যেখানে ৭ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করতে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে খালিয়াজুরী থানাকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন
আদালতের নির্দেশে আজ, বৃহস্পতিবার, সানোয়ার হোসেনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল-উল-আহসান, থানার ওসি মকবুল হোসেন এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পাঠানো হয় নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে।
সানোয়ার হোসেনের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায় এবং সবার মনে নানা প্রশ্ন উত্থিত হয়। কেননা, মৃত্যু আগে সানোয়ার নিজেই এক ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করে গিয়েছিলেন।
পলাতক আসামিরা
এদিকে, মামলার পরপরই আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও, এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আসামিদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পরিবারের অভিযোগ ও তদন্ত
সানোয়ারের পরিবার দাবি করছে যে, তার মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয় এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তারা বলেছেন, সানোয়ারের মৃত্যু ঘটে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বার্তাটি দেখতে পান এবং তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে একটি ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করেন।
তদন্তের কাজ এখনও চলছে, এবং পুলিশ প্রতিটি প্রমাণের ওপর নজর রেখে আসামিদের ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনা পুরো এলাকায় এক ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ একটি খুদে বার্তা এমন এক রহস্যময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা সবার মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে তদন্তের সঠিক ফলাফল আসার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।