হাসিনা শুধু ফ্যাসিস্ট নন, স্যাডিস্টও: গোলাম পরওয়ার

হাসিনা শুধু ফ্যাসিস্ট নন, স্যাডিস্টও: গোলাম পরওয়ার

ছবিঃ সংগৃহিত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দেলোন ছিল তারই প্রতিচ্ছবি।

আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা টাউনহল ময়দানে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ২ হাজারের বেশি আমাদের সোনার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা, আয়না ঘরে গুম ক্রসফায়ারসহ সমস্ত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল শেখ হাসিনা। একথা দেশ এবং সারা দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত। ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানে গণহত্যার শিকার হয়েছে বহু মানুষ এবং আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা।

তিনি বলেন, তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা এত নিষ্ঠুর এবং ফ্যাসিস্ট যে, তার ক্ষেত্রে শুধু ফ্যাসিস্ট শব্দটি প্রযোজ্য নয় বরং তিনি একজন ‘স্যাডিস্ট’। ইংরেজিতে তাকেই ‘স্যাডিস্ট’ বলা হয়, যার পাষাণ হৃদয়। খুন, গুম, নিষ্ঠুরতা এবং রক্তপাত দেখে যে একটুও কাঁপে না বরং এটা উপভোগ করে।

তিনি বলেন, আজকে বিভিন্ন মহল থেকে জালিম শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের এ ষড়যন্ত্র দেশবাসী যে কোনো মূল্যে রুঁখে দেবে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট দেশবাসীর অনেক প্রত্যাশা। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই অর্থবহ নির্বাচন দিতে হবে।

বরগুনার কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযাম হোসাইন হেলাল।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ধরে রাখার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মাদ বাবর এবং এ কে এম ফখরুদ্দীন খান রাযী সদস্য কেন্দ্রীয় মহলিসে শুরা ও অঞ্চল টিম সদস্য।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা জামায়াতের আমির, উপজেলা সদরের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাওলানা মো. মহিব্বুল্লহ হারুন। সম্মেলন সঞ্চালন করেন বরগুনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আসাদুজ্জামান আল মামুন।