অলসতায় মুমিনের ঈমান দুর্বল হয়
প্রতিকী ছবি।
অলসতা একটি মন্দ স্বভাব। অলসতার কুপ্রভাব পড়ে মানুষের সামগ্রিক জীবনে। এর কুপ্রভাবে নষ্ট হয় মানুষের ঈমান ও আমল। কুরআন-হাদিসে অলস মানুষদের নিন্দা জানানো হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন থেকে অধিক উত্তম ও প্রিয়। তুমি ওই জিনিসে যত্নবান হও, যাতে তোমার উপকার আছে। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর উৎসাহ উদ্দীপনাহীন হয়ো না’ (মুসলিম : ৪৮২২)। অতএব আমাদের প্রতিটি কাজে উদ্যমতা থাকা চাই।
আল্লাহ তায়ালা দিনের শুরুতে বরকত রেখেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বরকতের সময় জাগ্রত থাকবে আল্লাহ তার অলসতা, উদাসীনতা ও আড়ষ্টতা সব দূর করবেন এবং পুরো দিনের সব কাজে বরকত দান করবেন। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত-রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! দিনের শুরুতে চার রাকাত নামাজ পড়তে অপারগ হয়ো না, আমি তোমার সারা দিনের কাজ সম্পন্ন করে দেব’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ২/৪৯২)। দিনের শুরু ভাগের জন্য রাসুল (সা.) দোয়া করেছেন। হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) এই দোয়া করেছেন-‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরু ভাগ বরকতময় করুন।’ (তিরমিজি : ১২১২)
অলসতা দূর করার জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের আজাব থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার মনে তাকওয়ার অনুভূতি দান করুন, আমার মনকে পবিত্র করুন। আপনিই তো আত্মার পবিত্রতা দানকারী। আপনিই তো হৃদয়ের মালিক, অভিভাবক ও বন্ধু। হে আল্লাহ! আপনার কাছে আশ্রয় চাই এমন ইলম থেকে, যে ইলম কোনো উপকার দেয় না; এমন হৃদয় থেকে, যে হৃদয় বিনম্র হয় না; এমন আত্মা থেকে, যে আত্মা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া থেকে, যে দোয়া কবুল হয় না’ (মুসলিম ২৭২২)। অন্যত্র আছে, তিনি দোয়া করতেন-‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমনপীড়ন থেকে।’ (বুখারি : ২৮৯৩)