টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়রাণ্যে বা ফাতরার বনে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ
ছবি: প্রতিনিধি
টিআই তারেক কুয়াকাটা থেকে ফিরে: টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। যার স্থানীয় নাম ফাতরার বন। অনেকের কাছে পাথরঘাটার বন কিংবা হরিণঘাটার বন নামেও পরিচিত। স্থানটি বঙ্গপোসাগরের উপকুলে সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলির একটি। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ট্রলারযোগে যাওয়া যায়। সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট। সাগরকন্যা কুয়াকাটা থেকে দর্শনীয় স্থান ফাতরার বন যাওয়ার পথে আন্ধারমানিক নদীর মোহনা চোখে পড়বে। এই মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় এই ফাতরার বন বা টেংরাগিরি বনাঞ্চল।
ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। সৈকত থেকে ট্রলার যোগে যাওয়া আসার সময়টাও উপভোগ্য। তবে সুন্দরবনের অংশ হলেও এ বনে নেই তেমন কোন হিং¯্র প্রাণী। ফাতরার বনের ভেতর দিয়ে ছোট ছোট খাল বয়ে গেছে। দিনে দুইবার এখানে জোয়ার ভাটা হয়। জোয়ার-ভাটার উপস্থিতির কারণে, বনে সুন্দরী, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা সহ দেখা মিলবে আরো বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের। ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলবে অজগর, গোখরা গুই সাপের মতো সরীসৃপের।
এখানে পর্যটকদের জন্য মসজিদ ও পুকুর রয়েছে। পিকনিকে আসা দর্শনার্থীদের রান্না করার আলাদা স্থানও নির্মাণ করা হয়েছে। বনে দুটি দোকানও রয়েছে। যেখান থেকে পর্যটকরা চা, বিস্কুট কেক কলা খেতে পারেন। বন বিভাগ পর্যটকদের ভ্রমনের সুবিধার্থে বনের মধ্যে কংক্রিটের উচু রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছেন। যার ওপর দিয়ে মানুষ পায়ে হেটে ঘন বনের ভেতর প্রবেশ করতে পারেন।
এছাড়া ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডাকে বিমোহিত হওয়ার সুযোগতো রয়েছেই। বন মোরগ, বানর আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরেরও দেখা মেলে। ফাতরার বনে যাওয়ার পথে কুয়াকাটার শুটকি পল্লী ও লেবুর বনও দেখা মিলবে। আর খালের দু ধারে ঘন সবুজ বনের সৌন্দর্য চোখ জুড়াবে।
২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সুন্দরবনের পর এটিই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল। ৪০৪৮ দশমিক ৫৮ হেক্টর জমি নিয়ে এই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি গঠিত।
ফাতরার বন প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট। এই বন বিভিন্ন গাছপালায় সমৃদ্ধ। মানুষের অধিক প্রবেশ ও বন ধ্বংসের কারণে এই জীববৈচিত্র হুমকির মুখে।