জমজমাট ই-কমার্স, ৫ বছরে লেনদেন বেড়েছে ১০ গুণ

জমজমাট ই-কমার্স, ৫ বছরে লেনদেন বেড়েছে ১০ গুণ

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ই-কমার্স খাতের অগ্রযাত্রা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়ন, ইন্টারনেট সংযোগের সহজলভ্যতা, স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্তার এবং ক্রেতাদের অনলাইন কেনাকাটার প্রতি আগ্রহ ই-কমার্স খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর থেকে মানুষ অনলাইনে কেনাকাটার দিকে বেশি ঝুঁকছে, যা ই-কমার্স ব্যবসার ব্যাপক প্রসারে সাহায্য করেছে।

বিগত কয়েক বছরে দেশে হাজারো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেখানে বেশিরভাগই পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং স্বাস্থ্যসেবা পণ্য বিক্রি করছে। শুধু বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নয়, ফেসবুকভিত্তিক ছোটখাট অনলাইন ব্যবসাও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ‘এফ-কমার্স’ নামে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে চার লাখের বেশি এফ-কমার্স ব্যবসা সক্রিয় রয়েছে এবং এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে করে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ঘরে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন, যা কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ই-কমার্সের লেনদেনের পরিমাণ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ই-কমার্স লেনদেন ছিল দুই হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। যা এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে ছিল এক হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। যেখানে মাত্র পাঁচ বছর আগে এই খাতের লেনদেন ছিল ২৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে এই খাতের লেনদেন বেড়েছে ১০ গুণের বেশি।

আগে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। এখন ই-কমার্সের মাধ্যমে সহজেই সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে। শুধু পোশাক বা ইলেকট্রনিক্স নয়, এমনকি গ্রোসারি সামগ্রীও ঘরে বসে অর্ডার করা যায়, যা সত্যিই সময় বাঁচায়।

ই-কমার্সের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো সহজ লেনদেন ও দ্রুত ডেলিভারি ব্যবস্থা। গ্রাহকরা ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য কিনতে পারছেন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সহজলভ্যতা অনলাইন কেনাকাটাকে আরও সহজ করে তুলেছে। আগে অনেকেই ক্যাশ অন ডেলিভারি পছন্দ করতেন, কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল পেমেন্টের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে প্রতারণার আশঙ্কাও কমে এসেছে।