চোখের পলকে ঈদ বিশাদে পরিণত হল জেসমিনের; সড়কে ঝরে গেল স্বামী সন্তানদের জীবন
ছবি: প্রতিনিধি
টিআই তারেক: ৩ এপ্রিল বিকেল ৫-৫:৩০ মিনিট । যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক। ঈদের পর বেড়াতে গিয়ে শার্শা থেকে পরিবার নিয়ে শহরে ফিরছি। ঝিকরগাছা বাজার পার হবার পর একটি যাত্রীবাহি বাস আমাদের অটো (ইজি বাইক) এর পাশ দিয়ে গা ঘেষে বেপরোয়া গতিতে চলে গেল। তার গতিবিধি দেখে চমকে উঠি। ইজি বাইক চালককে বলি ভাই- রাস্তার ধার দিয়ে সাবধানে যান।
তপস্বীডাংগা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস পার হয়ে দেখি রাস্তায় গাড়ির জ্যাম। সামনে যাবার জো নেই। যশোর শহরমুখী গাড়ীগুলো লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সাথে দুই মাসের নবজাতক পুত্র সন্তান, কন্যা এবং স্ত্রী। তাই কিছুটা বিচলিত।
পুলেরহাট বাজারের কাছে এসে তাদেরকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে সামনে ঘটনা কি দেখতে এগিয়ে গেলাম। যেহেতু আমি উল্টো দিকে মুখ করে বসে ছিলাম। আমার স্ত্রী বললো সামনে এক্সিডেন্ট হয়েছে।
নেমে দেখি যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর পুলেরহাট বাজারে যেখানে রাস্তা আগে থেকে ভাংগা চোরা সেখানে একটি মেয়ের লাশ অনেকটা আড়াআড়ি পড়ে আছে। ওড়না দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে রাখা। মাথা দিয়ে বের হওয়া রক্তে রাস্তা ভিজে যাচ্ছে। পরে জেনেছি মেয়েটির নাম ঐশী। বয়স ১০।
তার পাশেই পড়ে রয়েছে বহনকরা বাবা রুবেলের শখের মোটরসাইকেলটি। মানুষ লাশটি ঘিরে দেখছে। আর হা-হুতাশ করছে। কেউ কেউ রাস্তায় বেঞ্চ দিয়ে আটকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
দুরে ঘাতক বাসে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গেল। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে বাসটি সম্ভবত ভাংচুর করে। পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় একজনের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, পেছন দিক থেকে বেপরোয়া গতির ঐ বাসটি (যেটি বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা) মোটরসাইকেলটি চাপা দেয়। এই ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা খুলনার মুজগুন্নি এলাকার রুবেল, তার দুই মেয়ে ঐশী (১০) ও তায়েবা (৪) মৃত্যুবরণ করেছে। একমাত্র রুবেলের আহত স্ত্রী জেসমিন জীবিত আছে। জেসমিন তার বাপের বাড়ি শার্শা থেকে ঈদ শেষে খুলনা ফিরছিলেন।
এই ঘটনাটি দেখে যে কারো চোখে পানি আসবে, মন খারাপ হবে। গৃহবধু জেসমিনের জীবন নিমিষে ফিকে হয়ে গিয়েছে। তিল তিল করে গড়া তার সোনার সংসার তছনছ হয়ে গেল মহাসড়কে ঘাতক বাস চালকের ভুলে। এই ক্ষতি কোন ভাবেই পূরণ হবার নয়। কিন্তু এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা বাসচালককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাতে পারি।
প্রশাসনের প্রতি দাবি অবিলম্বে এই বাসচালককে গ্রেফতার করা হোক। আমরা দেখি বরাবরই এই ধরনের সড়ক দূর্ঘটনার পর বাসচালকরা পার পেয়ে যান। তাদের ধরা হয় না। শাস্তি তো দুরে থাক। যদিও ঘটনার দিন বাসটি পুলিশ জব্দ করেছে। আইনশৃংখলা বাহিনী তদন্তও শুরু করেছে জেনেছি।
চালককে শনাক্ত করা খুব জটিল কিছু না। বাসটি কোন মালিকের তা খোঁজ নিলেই বাসের চালক কে? তা বের করা যাবে। তিন তিনটি জীবন ঝরে গেল রাস্তায়। বেঁচে থেকেও একজন গৃহবধু জেসমিনের জীবনে অন্ধকার নেমে এলো। এই দায় কে নেবে? এভাবে সড়কে আর কত জীবন ঝরবে? মানুষ কি প্রতিকার পাবে না?