আমাদের জীবন বাঁচিয়েছেন হামাস যোদ্ধারা: ইসরায়েলি জিম্মি

আমাদের জীবন বাঁচিয়েছেন হামাস যোদ্ধারা: ইসরায়েলি জিম্মি

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেজ গত শনিবার (৫ এপ্রিল) দুই ইসরাইলি বন্দির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। 

ভিডিওতে তারা তাদের মুক্তির জন্য ইসরায়েলি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে চাপ দিতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খবর আনাদোলুর।

এতে এক বন্দিকে বলতে মোনা গেছে, আমরা মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে চাই, আকাশের চাঁদ-তারা দেখতে চাই। আমাদেরকে বাঁচাও। 

তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রতি অভিযোগের সুরে বলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনীআর্মি আমাদের ওপর বোমা নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি আমরা যে ভবনে থাকি সেখানেও বোমা মারা হয়েছে। অথচ আমরা মুক্তি চাই।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিশুকে গুলি করে হত্যা করল ইসরায়েল
এই বন্দি আরও বলেন, হামাস যোদ্ধারা আমাদের জীবন বাঁচিয়েছে। তারা বোমার কবল থেকে রক্ষা করে আবার টানেলের ভেতরে নিয়ে এসেছে আমাদেরকে। 

তিনি বলেন, ৩০ মিটার মাটির নিচে টানেলর মধ্যে আমরা অবস্থান করছি। এখানে কোনো সূর্য্যের আলো নেই। এই বন্দি ইসরায়েলিদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির সরকারকে বন্দি মুক্তির ব্যাপারে চাপ দিতে বলেছেন তিনি।

আরেক বন্দি বলেন, তোমরা সরকারের কথা বিশ্বাস করো না। তারা তোমাদের বলছে যে তারা হামাসকে চাপ দিচ্ছে কিন্তু আসলে তারা বোমা হামলা ছাড়া কিছুই করছে না। এমনকি এতে আমরাও আহত হচ্ছি। 

ভিডিওটির শেষে লেখা দেখা যাচ্ছে, কেবল যুদ্ধবিরতিই বন্দিদের মুক্তি দিতে পারে। ইসরাইলের ধারণা, এখনো গাজায় প্রায় ৫৯ জন ইসরাইলি বন্দি জিম্মি রয়েছে। 

যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত। আর ইসরাইলের হাতে বন্দি রয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি। 

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহু
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের সামরিক হামলায় গাজায় ৫০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। 

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। 

নির্বিচারে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুসহ নিরপরাধ বেসামরিক লোকজনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও রয়েছে।