যশোরে সবজির বাজারে উত্তাপ
ছবি: সংগৃহিত
যশোর প্রতিনিধি: গেল শীত মৌসুম ও রমজানের আগে-পরে বাজারে সবজির দামে যে স্বস্তি ফিরেছিল, সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করেছে যাশোরের বাজারে। বেশ কিছুদিন যাবত যশোরের সবজি বাজারগুলোতে দাম বৃদ্ধি লক্ষ্যনীয়। এ অবস্থায় অস্বস্তিতে সবজি ক্রেতারা।
সরেজমিন যশোরের বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে । সবজির দোকানগুলোতে গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, করলা, পটল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, ফিঙা, কচুর লতি, ঢেঁড়শসহ অন্যানা সবজি কচুর লা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় অধিকাংশটির দামই কেজি প্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি। বরবটি, কচুর লতি, পটোল, ঝিঙ্গে, বেগুন, কচুর মুখি ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। আর ঘাটকোল ও শজনের ডাটার দাম আকাশছোঁয়া। আর তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে করলা, লাউ, ফিতে, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়স ও পেঁপে, যেগুলোর কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। কেজি। সবচেয়ে কম দামের সবজি এখন টমেটো, যা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি এবং কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আ: রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, তার বাড়ি খড়কি হাজামপাড়ায়। রিক্সা চালিয়ে তিনি সংসার চালান। সবজির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় তার কষ্ট হচ্ছে ক্রয় করতে। হিসেব করে বাজার করতে হচ্ছে।
ঝন্টু দফাদার চাকরি করেন উপশহর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ হিসেবে। তিনি বলেন, সামন্য বেতনে তিনি চাকরি করেন। কয়েক মাস তিনি ভালই ছিলেন কাঁচাবাজারের জিনিসপত্রের সাধ্যের মধ্যে ছিল। কয়েকদিন ধরে সবজির দাম বেশ চড়া। তাই বাজার করতে যেয়ে দু:চিন্তায় তারা।
ফাহিমা বেগম। তার বাড়ি সরকারি এম এম কলেজের পাশে। তিনি বস্তিতে থাকেন। ছাত্রমেসে রান্না করেন। ছাপোষা মানুষ। তেমন আয়-উপার্জন নেই। সংসারে চার সন্তান, স্বামী নেই। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন ও সংসার চালাতে যেয়ে তিনি রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় তার বিপদের শেষ নেই। শান্তিমত তরকারি ক্রয় করতে পারছেন না।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি এবং বাড়তি পরিবহন খরচই দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী। বড়বাজারের সবজি বিক্রেতা আরি আরিফ হোসেন বলেন, আমরা বেশি দামে কিনলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। গত কয়েক সপ্তাহে পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। তাছাড়া, শীতের পর আগের মতো এখন আর সহজে মাল পাওয়া যাচ্ছে না। এখন যে সবজিগুলো বাজারে আসছে, সেগুলোর চাষের খরচও শীতের সবজির চেয়ে বেশি। সেজন্য দামও বেশি।
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, শীতকালে নানা ধরণের সবজি পাওয়া যায় তাই তুলনামুলক দামও কম। বর্ষার সময়ে উৎপাদন কম হয়। সবজির গাছ বিভিন্ন কারণে মারা যায় তাই দামও বেড়ে যায়। এখন দেখার বিষয় কি কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। যদি উৎপাদনের কমের কারণে দাম বেড়ে যায় সেটি এক রকম আর ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বৃদ্ধি করে সেটি ভিন্ন রকম। সবজির বড় বড় আড়তগুলো অভিযান চালানো হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।