মুহুরি নদীর পানিতে নিমজ্জিত ফুলগাজী উপজেলা শহর

মুহুরি নদীর পানিতে নিমজ্জিত ফুলগাজী উপজেলা শহর

সংগৃহীত

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি মুহুরি নদী হয়ে ফুলগাজী উপজেলা শহরে ঢুকে পড়েছে।

রোববার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী বাজারে পানি ঢুকে প্রধান সড়কসহ বেশ কয়েকটি দোকান ডুবে গেছে। খরব পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ বাজার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলগাজী বাজার থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

জানা যায়, ফুলগাজী বাজারে ফ্লাডওয়াল, স্লুইসগেট ও পানি নিষ্কাশন ড্রেনেজ নির্মাণ সঠিকভাবে না করায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মুহুরি নদীর পানি ফুলগাজী বাজারে ঢুকে পড়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাজারের প্রধান সড়কে পানি উঠে যায়। এসময় কয়েকটি দোকানে পানি ঢুকে পড়ে মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়।

ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রতি বছরই সামান্য বৃষ্টি অথবা মুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই ফুলগাজী বাজার ডুবে যায়। লোকসানে পড়ে ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন। কিন্তুু পানি নেমে যাওয়ার পর এ বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। যার কারণে মুহুরি নদীর পানি দেখলেই আতঙ্ক শুরু হয় ফুলগাজীর ব্যবসায়ীদের মাঝে। 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের স্লুইসগেট, ফ্লাডওয়াল ও ড্রেনেজ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারসাজিতে প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফুলগাজী সদর বাজার তলিয়ে যায়।

ফুলগাজী সদর বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. এনামুল হক জানান, তিনি এই বাজারে প্রায় বিশ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। বাজারের সাবেক গরু বাজার এলাকা স্থানটি নীচু হওয়ার কারণে মুহুরি নদীতে পানি বেড়ে গেলে বাজারের পানি নিষ্কাশনের যে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে সেখান দিয়ে বাজারে পানি ঢুকে পড়ে। অটো স্লুইসগেটের মুখটি নদীর দিকে না দিয়ে বাজারের দিকে দিলে পানি উঠার সাথে সাথে গেট বন্ধ হয়ে যেত, তাহলে বাজারটি এভাবে পানিতে ডুবত না। সঠিকভাবে স্লুইসগেট, ড্রেন নির্মাণ ও ফ্লাডওয়াল নির্মাণ হলে বাজারে পানি প্রবেশ বন্ধ হবে।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে নয়টার সময় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নদীর পানি বাড়ছে বলে জানান, ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন প্রশাসক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, তাঁর ইউনিয়নে কোথাও ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টি বন্ধ থাকলে নদীর পানি এমনিতেই কমে যাবে। ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম মুহুরি নদীর ফুলগাজী উপজেলার অংশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, রবিবার সকাল ৯টায় মুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার ৮ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পানির প্রবাহ ১১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারে পৌঁছে। মুহুরি নদীর পানি প্রবেশ করে ফুলগাজী বাজারের প্রধান সড়ক ও কয়েকটি দোকান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাজার থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

তিনি জানান, মুহুরি নদীর পানির প্রবাহের বিপদসীমা হচ্ছে ১২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। তবে এখন পর্যন্ত পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। রাতের মধ্যেই পানির চাপ আরো কমতে পারে। পানির চাপ এ অবস্থায় থাকলে ফেনীতে বন্যার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পাউবোর এ কর্মকর্তা। তারপরও সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি।