রুটের রেকর্ডের রাতে ইংল্যান্ডের বিশাল জয়

রুটের রেকর্ডের রাতে ইংল্যান্ডের বিশাল জয়

ফাইল ছবি

জো রুটের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে ইংল্যান্ড তিন উইকেটে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। কার্ডিফে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রুট ১৩৯ বলে ১৬৬ রান করেন, যা তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ২১টি চার আর দুটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩০৮ রানের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে যেতে যথেষ্ট ছিল। ছয় বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দ্বিতীয় ওভারে বিনা রানে আউট হন জুয়েল অ্যান্ড্রু। ব্রাইডন কার্সের অতিরিক্ত বাউন্সেই উইকেট হারান তিনি। এরপর কার্স ও সাকিব মাহমুদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে থাকেন। কার্টি ও কিং দুটি জীবন পান, যেগুলো থেকে উইকেট পেতে পারত ইংল্যান্ড।

চ্যালেঞ্জিং সময়টা কাটিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি গড়েন কিং ও কার্টি। পাওয়ারপ্লের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৫৬/১। এরপর ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন তারা। কার্সের এক ওভারে চারটি চার হাঁকান কার্টি।

কার্টি ৪১ রানে আরেকটি জীবন পান। দুজনেই হাফসেঞ্চুরি করেন। তাদের ১৪১ রানের জুটি ভাঙে আদিল রশিদের বলে কিং লং অফে ধরা পড়লে। এরপর কার্টি আর শাই হোপ মিলে ইনিংস এগিয়ে নেন। বেথেলের বলে চার মেরে কার্টি এ বছর ওয়ানডেতে তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি, ৩৬তম ওভারে উইল জ্যাকসের বলে স্ট্যাম্পড হন।

এরপর রশিদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান হেটমায়ার। জাস্টিন গ্রেভস কিছু চার মেরেও বেশি এগোতে পারেননি। হোপ ছক্কা মেরে ফিফটি করেন, এরপর বাউন্ডারি আর ছক্কা হাঁকান। কিন্তু একের পর এক উইকেট পড়তে থাকলে চাপে পড়ে যায় দল।

গুডাকেশ মোতি জ্যাকসের এক ওভারে চারটি চার মারেন। এরপর রশিদের বলে আউট হন তিনি। শেষ দিকে আলজারি জোসেফও ছক্কা আর চার মারেন। তবে শেষ পর্যন্ত হোপ ধরা পড়লে ৪৭.৪ ওভারে ৩০৮ রানেই থামে উইন্ডিজের ইনিংস।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে খারাপ শুরু পায় ইংল্যান্ড। জেমি স্মিথ আর বেন ডাকেট – দুই ওপেনারই শূন্য রানে আউট হন। এটা ইংল্যান্ডের জন্য হোম ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো দুই ওপেনারের ডাবল ডাক।

এরপর হ্যারি ব্রুক কিছু আক্রমণাত্মক শট খেলেন। ফরডের এক ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। রুটও শুরুতে ধীরে খেললেও ফরডের এক ওভারে চারটি চার মেরে ছন্দে ফেরেন।

রুটের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়েন ব্রুক। কিন্তু তিন রান কম নিয়ে ফিফটি মিস করেন তিনি। এরপর জোস বাটলারকেও আউট করে ফেরান জোসেফ।

রুট ফিফটি করেন এবং ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে যান, ইয়ন মরগানকে টপকে।যান তিনি। প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে ৭০০০ রানের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। 

কিন্তু অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকে। বেথেল এলবিডব্লিউ হন চেজের বলে। তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ১৩৩/৫।

তখন রুটের সঙ্গে জুটি বাঁধেন জ্যাকস। রুটই বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। মটিকে ছক্কা ও চার মেরে ৯৮ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি, এটি তার ১৮তম ওডিআই শতক। এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

জ্যাকস এক রানের জন্য ফিফটি মিস করেন। জোসেফ তাকেও এলবিডব্লিউ করেন। এরপর কার্সকেও ফেরান জোসেফ। তখন ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ২৪ বলে ২১ রান।

শেষ দিকে রুট ও রশিদ মিলে চাপ সামাল দেন। রুট ৪৯তম ওভারে একটি চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন।

এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নেয় ইংল্যান্ড।