সন্তান পালনের দায়িত্ব যেভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কোহলি-আনুশকা

সন্তান পালনের দায়িত্ব যেভাবে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কোহলি-আনুশকা

ছবি: সংগৃহীত

বিরাট কোহলির সঙ্গে ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইতালির ফ্লোরেন্সে ঘনিষ্ঠ পরিসরে বিয়ে সারেন বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি কন্যাসন্তান ভামিকার জন্মের পর এবং সম্প্রতি ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ছেলেসন্তান আকায়ের জন্মের পর, সিনেমা ও জনসম্মুখে আনুশকার উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

সম্প্রতি ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনুশকা অকপটে বলেন, বর্তমানে তার প্রথম পরিচয় ‘মা’। ক্রিকেট পেশার কারণে সারাবছরই কোহলিকে ভ্রমণ করতে হয়, কিন্তু আনুশকার পেশা তাকে সময় বেছে কাজ করার সুযোগ দেয়। “এই বয়সে আমি সন্তানদের প্রধান অভিভাবক। নিজেই নিজের কাজের সময় ঠিক করতে পারি, তাই খুব বেছে বেছে সিনেমা করি,” বলেন আনুশকা।

শিশুদের বড় করার ক্ষেত্রে আনুশকা ও কোহলি আলাদা ‘মা’ ও ‘বাবা’ হিসেবে দায়িত্ব ভাগ করেন না, বরং একসঙ্গে পরিবারের মতো করে সামলে নেন সবকিছু। আনুশকা বলেন, “আমরা সন্তানদের এমনভাবে বড় করতে চাই যেন তাদের মানসিক ভারসাম্য থাকে। বাবা-মা হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্য হিসেবে একসঙ্গে তাদের পাশে থাকা জরুরি।”

তিনি মনে করেন, সন্তানরা যা দেখে, সেটাই শেখে। “যদি তারা দেখে বাবা-মা দুজনেই কাজ করছে, তাহলে তারাও ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব বুঝবে। হ্যাঁ, আমাদের আরও সচেতনভাবে সব সামলাতে হয়, তবে তা সম্ভব। ঘরের পরিবেশটাই মূল বিষয়,” জানান আনুশকা।

আনুশকা আরও বলেন, ‘আমার তো স্বাধীন পেশা, আমি এই সিদ্ধান্তটা নিতে পারি কখন কাজ করব—বছরে একটা সিনেমা করব না দুইটা। বিরাটকে সারা বছর খেলতে হয়। যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো পরিবার হিসেবে আমরা যে সময়টা একসঙ্গে কাটাচ্ছি।’

নিজে একজন প্রগতিশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা আনুশকা চান, সন্তানদের ভেতরে ছোটবেলা থেকেই মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে। “ভালোবাসা আমাদের পরিবারের মূল ভিত্তি। আমরা চাই ওরা এমন মানুষ হয়ে উঠুক যারা ভদ্র, বিনয়ী এবং বাস্তবতা জানে। অতিরিক্ত আদরে নয়, বরং সঠিক শিক্ষা দিয়ে ওদের মানুষ করতে চাই,” বলেন তিনি। সাধারণত বলিউড তারকাদের ব্যস্ততা ও গ্ল্যামারের মধ্যেও আনুশকার এই বাস্তবতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।