ধামরাইয়ে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে সাড়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

ধামরাইয়ে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে সাড়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ের জয়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে আয়ান নামে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত আয়ান সোমভাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়পুরা এলাকার জামান মোল্লার ও আখি আক্তারের একমাত্র ছেলে।

সোমবার (৭ জুলাই) খেলতে গিয়ে উপজেলার জয়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র সন্তান আয়ানকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা-বাবা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকটি খোলা রয়েছে এবং এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শিশু আয়ানের বাবা জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার সকাল ১২টার দিকে আমার ছেলে খেলতে গিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে আর উঠতে পারেনি। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর বেলা ১টার দিকে বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে গিয়ে দেখি আমার ছেলের নিথর দেহ। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিলে ডাক্তার আমার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত আয়ানের মামা রউফ বলেন, এমন অরক্ষিত স্থানে যেকোনো শিশু বিপদে পড়তে পারে। আমার ছোট্ট ভাগনে মারা গেল। ঠিকাদার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শাস্তি দাবি করছি।  

এ বিষয়ে দক্ষিণ জয়পুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকটির কাজ নির্মাণাধীন থাকায় সেপটিক ট্যাংকে বৃষ্টির পানি জমে ছিলো। আর সেই পানিতে পড়ে শিশুটি মারা যায়। কাজ চলমান আছে, সকালেও ঠিকাদার এসে কাজ দেখে চলে গেছে। 

শিশুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠান হলেও অরক্ষিত একটি ট্যাংক ঢেকে না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের তো আর সবসময় এটা দেখে রাখা সম্ভব না।’ 

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আল জোবায়ের কনস্ট্রাকশনের মালিক বাদল হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।